থামছে না শামসুদ্দিনের কান্না, বুকে জড়িয়ে রেখেছেন নাতি-নাতনিদের

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ের রায়পুর এলাকায় বেপরোয়া গতির কাভার্ডভ্যানের চাপায় শামসুদ্দিন ড্রাইভারের দুই ছেলে অটোরিকশাচালক শেখ ফরিদ ও সুমন নিহত হন। বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় ঐ দুর্ঘটনায় একজন নাইটগার্ডও ঘটনাস্থলে নিহত হন। সে সময় পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন আহত হন। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার রাত ৩টায় শেখ ফরিদ ও সুমনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাদের লাশ ঘিরে রেখেছেন পাড়াপ্রতিবেশীসহ বন্ধু-বান্ধব। সন্তানদের হারিয়ে পাগলপ্রায় তাদের বাবা, মা। ঘরের ভেতর থেকে স্ত্রীদের গুমরে কাঁদার আওয়াজ আসছে। ফরিদ ও সুমনের সন্তানদের বুকে জড়িয়ে হাউমাউ করে কাঁদছেন বাবা শামসুদ্দিন। তিন কক্ষ বিশিষ্ট টিনশেডের ঘরে স্ত্রী, তিন ছেলে ও তাদের স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করেন শামসুদ্দিন ড্রাইভার।

শেখ ফরিদের তাসফিয়া (৫) ও শেখ রাহিন (২) এবং সুমনের নিশাত (৭) ও মারিয়া (৪) নামে দুটি করে সন্তান রয়েছে। সন্তানদের হারিয়ে নাতি-নাতনিদের কথা ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন বাবা শামসুদ্দিন। শামসুদ্দিন বলেন, আমি ও আমার দুই ছেলে ফরিদ এবং সুমনসহ সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাই। প্রতিদিন রাত ১০টার মধ্যে ছেলেরা গাড়ি গ্যারেজে রেখে বাড়িতে চলে আসে। আজ ১১টার পরও তারা বাড়ি আসেনি।

রাত সাড়ে ১১টার সময় খবর পাই কাভার্ডভ্যানের চাপায় আমার সোনামণিরা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে। এখন তাদের পরিবার কে দেখবে? তাদের সন্তানদের কে দেখবে?’ এসব বলতে বলতে তিনি বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.