তলিয়ে গেল পুরো গ্রাম, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা মাদরাসায়

সাতদিন ধরে বর ও কনের বাড়িতে আলোকসজ্জায় বর্ণিল। জোয়ারের প্লাবনে পাল্টে গেল সেই বিয়ের চিত্র। বাড়ির আঙিনা থেকে কিছুতেই নামছিল না পানি। অবশেষে বাধ্য হয়ে অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন হলো নিকটস্থ একটি মাদরাসায়। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বকশিরচরে। বকশিরচর গ্রামের কালাম হাওলাদারের বিদেশ ফেরত ছেলে রাকিব হাওলাদারের সঙ্গে একই গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ের বিয়ের আনুষ্ঠিকতা সম্পন্ন হয় ঐ মাদরাসায়।

আনোয়ার হোসেন জানান, উভয় পরিবারের ৩০০ অতিথি ও স্বজন দাওয়াত দেওয়া ছিল। ভেবেছিলাম বৃষ্টি কমবে। সেইসঙ্গে নেমে যাবে পানি। আজ (বুধবার) বৃষ্টি কমলেও উঠানে পানি কমেনি। এজন্য কিছুটা কষ্ট হলেও পাশেই চাঁদপাশা মহিলা দাখিল মাদরাসায় অতিথি আপ্যায়ন করেছি। চেষ্টা থাকলেও অন্য গাড়ি রাস্তায় ঢুকাতে না পেরে ভ্যানে করে মেয়ে-জামাতাকে আমার বাড়ি থেকে নিয়ে গেছে। কালাম হাওলাদার বলেন, আমাদের অনেক বড় পরিকল্পনা ছিল সন্তানদের বিয়ের আয়োজন নিয়ে। কিন্তু পানি এমনভাবে জমে ছিল তা সম্ভব ছিল না। শেষে যতটুকু সম্ভব ততটুকুতেই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি জানান, রাকিব আমার বড় ছেলে এবং পুত্রবধূ ফাতিমা ওই পরিবারের সবার ছোট মেয়ে।

বর রাকিব হাওলাদারের চাচাতো ভাই রুহুল আমিন বলেন, পূর্ব থেকেই দুই পরিবার প্রতিবেশী ছিল না। কনের মূল বাড়ি ছিল উপজেলার অন্য এলাকায়। তবে কয়েক বছর পূর্বে তারা কালাম হাওলাদার চাচার বাড়ির পাশে জমি কিনে বাড়ি করে সেখানে বসবাস করেন। চাঁদপাশা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মামুন খান বলেন, নদীর পানি বৃদ্ধি বা টানা বৃষ্টি হলেই চাঁদপাশা ইউনিয়নের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়। বকশিরচর তারমধ্যে অন্যতম নিচু একটি গ্রাম। আজকে সেখানে একটি বিয়ের আয়োজন ছিল।

কিন্তু পানিতে পুরো গ্রাম তলিয়ে থাকায় শেষে পাশের একটি মহিলা মাদরাসায় আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.