সরকারি দুই প্রতিষ্ঠানে ২৯ বছর চাকরি করেন কানু কুমার নাথ

তথ্য গোপন করে সরকারি দুই প্রতিষ্ঠানে দুই যুগ ধরে চাকরি করা চট্টগ্রামের কানু কুমার নাথের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। কানু নাথ তথ্য গোপন করে প্রায় ২৯ বছর ধরে ‘ইউপি সচিব’ ও কলেজের প্রভাষক পদে কর্মরত ছিলেন। রবিবার চট্টগ্রামের দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলাম এ মামলা করেন। তিনি জানান, একইসাথে দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার বিষয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য কলেজের মধ্যেই পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়। কমিটির সদস্যরা অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা পান। এ নিয়ে চট্টগ্রামের স্থানীয় দৈনিক আজাদীসহ বেশকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে তৎপর হয় দুর্নীতি দমন কমিশন।দুদক জানায়, কানু কুমার নাথ ১৯৯১ সালে হাটহাজারী উপজেলার তিন নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। চার বছরের মাথায় ১৯৯৪ সালের পাঁচ মে ফটিকছড়ির হেয়াকোবনানী ডিগ্রি কলেজে বাংলার প্রভাষক পদে যোগ দেন।

২০০২ সালের এপ্রিলে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। কলেজে তিনি নিয়মিত হলেও ইউনিয়নের সচিব পদে অন্য ব্যক্তি তার হয়ে নিয়মিত কাজ করতেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, কানু কুমার নাথ হেয়াকো বনানী ডিগ্রি কলেজে ১৯৯৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারি খাত (কলেজ থেকে গৃহীত) থেকে বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৫০ লাখ ৫৭ হাজাট ২৩৯ টাকা উত্তোলন করেছেন। একই সঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে সরকারি তহবিল থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন-সংক্রান্ত বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।

বিষয়টি স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১১-এর বিধি ৩৩-এর উপবিধি ১(গ) ও ২(চ)-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। যা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, স্থানীয় সরকার শাখা, চট্টগ্রামের বিভাগীয় তদন্তকালে প্রমাণিত হয়েছে। পরে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। যার মামলা নং-০১/২০২১। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়তাকে নিম্ন বেতন স্কেলে অবনমিত করে।এ প্রসঙ্গে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২-এর উপপরিচালক মো. আতিকুল আলম বলেন,

কানু কুমার নাথ একসঙ্গে দুই পদে চাকরি করছেন। একসঙ্গে দুটি পদে কর্মরত থেকে সরকারি কোষাগার (কলেজ থেকে গৃহীত) থেকে মোট ৫০ লাখ ৫৭ হাজার ২৩৯ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.