বহুদিন পর শ্রীলংকার রাজপথে মানুষের উৎসব

এবার ইতিহাসের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মুখে এশিয়া কাপ জিতে লংকানদের মুখে হাসি এনে দিল দেশটির ক্রিকেট দল। এ যেন পুরো জাতীর জন্য দারুণ এক মুহূর্ত। তাইতো পুরো দেশসহ কলম্বোর বিক্ষুব্ধ রাজপথ এখন বিজয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। গত রবিবার দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ফাইনালে পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন হয় শ্রীলংকা। আসরের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে হেরে যাওয়া দলটি বাংলাদেশকে হারিয়ে দারুণ প্রত্যাবর্তন করে। তার পরের ঘটনা তো ইতিহাস। অন্যরকম এক দৃষ্টান্ত তৈরি করে অর্জন করেছে এশিয়ান ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্ব। ষষ্ঠ এশিয়া কাপ ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরেছেন দাসুন শানাকার দল। ছাদখোলা বাসে করে চ্যাম্পিয়ন দল কলম্বোর রাস্তায় বিজয় উৎসব করেন।

সাদা পোশাকে ক্রিকেটাররা রঙিন এই উৎসবে মেতে ওঠেন ভক্তদের সঙ্গে। শ্রীলংকার সাবেক ওপেনার ও এমিয়া কাপ টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান চারিথ সেনানায়েকে বলেন, ক্রিকেট দলের এই অভিযাত্রায় অনুপ্রেরণা ছিল আরাগালায়া, সিংহলিজ এই শব্দের অর্থ সংগ্রাম। এদিকে গণমাধ্যম দ্য ন্যাশনালকে তিনি বলেন, ‘আরাগালায়ার আসল অর্থ হলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং জনগণের নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াই। পুরো দেশ এই সংগ্রামকে সমর্থন দিয়েছে এবং আমাদের ক্রিকেটাদের ওপরও এর ছাপ পড়েছিল। আমাদের ক্রিকেটাররা বুঝতে পেরেছিল শ্রীলংকার জনগণ কিসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এটাই খেলোয়াড়দের মাঠে নেমে দুইশ ভাগ দিতে উজ্জীবিত করেছে। ২ কোটি ২০ লাখ লংকানদের মুখে হাসি এনে দিয়েছে তারা।’

এশিয়া কাপের ফাইনালে ম্যাচসেরা খেলোয়াড় ভানুকা রাজাপাকসে এই ট্রফি দেশবাসীকে উৎসর্গ করেন, তিনি বলেন ‘একটি জাতি হিসেবে যে সংকটের মধ্যে আমরা আছি, তার মধ্যে এমন জয় সত্যিই দারুণ বলে মনে করি আমি।’ এদিকে ইতিহাসের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মুখে শ্রীলংকা। চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ায় দুই কোটি ২০ লাখ মানুষের দ্বীপ রাষ্ট্রটিকে জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধ আমদানির ব্যয় মেটাতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

এর মধ্যে এই শিরোপা কিছুটা হলেও তাদের মনে আনন্দের উপলক্ষ এনে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.