রেলভ্রমণে অতীতে ফাঁকি দেওয়া ভাড়া শেষ বয়সে পরিশোধ

চাকরিজীবনে টিকিট না কেটেই অনেকবার ট্রেনে ভ্রমণ করেছিলেন ৬৫ বছর বয়সী মো. এমদাদুল হক। কাজটি অনৈতিক মনে হওয়ায় মনে আসে অনুশোচনা। পরিকল্পনা নেন রাষ্ট্রের দেনা পরিশোধ করারও। তাই শেষ বয়সে এসে আনুমানিক হিসাব করে পরিশোধ করেন পুরো টাকা।
ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে। সোমবার ট্রেনের দুই হাজার ৫৩০ টাকা পরিশোধ করেন এ বৃদ্ধ। বিষয়টি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ের একটি পেজে পোস্ট দিলে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।

এমদাদুলের ছেলে ইমরান বলেন, বাবা সৎভাবে জীবনযাপন করেন। কেউ কষ্ট পান এমন কাজ তিনি কখনো করেননি। কারো কাছে এক টাকা ঋণ থাকলেও খুঁজে বের করে পরিশোধ করেন তিনি। বাবার এ কাজের জন্য আমরা গর্বিত। এমদাদুল হক বলেন, ‘আমি যত পুণ্যই করি না কেন, এ দেনার দায় তো কোনো পুণ্য দিয়ে শোধ করার উপায় নেই। তাই সরাসরি টাকাটা রেলের খাতেই জমা দিয়ে মানসিক প্রশান্তি পেয়েছি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী কবির হোসেন তালুকদার বলেন, সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্টেশন কাউন্টারে আসেন এমদাদুল। আগে বিভিন্ন সময়ে টিকিট না কেটে তিনি ট্রেন ভ্রমণ করেছেন বলে জানান। কতবার টিকিট না কেটে ভ্রমণ করেছেন তাও হিসাব রয়েছে। সে হিসাবে দুই হাজার ৫৩০ টাকা টিকিট বা ভাড়া বাবদ রেলকে দেন এমদাদুল। এরপর স্টেশন বুকিং কাউন্টার থেকে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-চট্টগ্রাম রুটের মহানগর প্রভাতীর দুই হাজার ৫৩০ টাকা সমমূল্যের আসনবিহীন টিকিট ইস্যু করে দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.