ফোন বাজতেই ছেলের চিৎকার, দেখল কলেজের তিনতলায় ঝুলছেন বাবা

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মনিরুল ইসলাম নামে ৪০ বছর বয়সী এক অফিস সহকারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার রাতে উপজেলার বাঁশগ্রাম আলাউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রশাসনিক ভবনের তিনতলা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত মনিরুল উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ইছাখালী গ্রামের মৃত নিয়াত আলীর ছেলে। তিনি বাঁশগ্রাম আলাউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অফিস সহকারী (পিয়ন) ছিলেন।

স্থানীয়রা জানায়, সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে অন্যান্য সহকর্মীদের সঙ্গে কলেজ ছাড়েন মনিরুল। কিন্তু কলেজ শেষে তিনি বাড়ি ফেরেননি। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন স্বজনরা। একপর্যায়ে কলেজের মালি আইয়ুব আলী ও আরেক পিয়ন রমজান আলীকে নিয়ে কলেজের প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে খোঁজেন মনিরুলের ছেলে বায়েজিদ। কিন্তু ভেতর থেকে কেচিগেটে তালা ঝুলানো ছিল। পরে তালা খুলে তারা ভেতরে ঢোকেন। একই সঙ্গে মনিরুলের মুঠোফোনে কল দেন। এ সময় মুঠোফোনের রিংটন বেজে উঠলে ভবনের তিনতলায় তাকে গলায় রশি পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে পুলিশ ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে খবর দেন আইয়ুব ও রমজান।

কলেজের মালি আইয়ুব আলী ও পিয়ন রমজান আলী বলেন, মাগরিবের পর আমাদের সঙ্গে নিয়ে বাবাকে খুঁজতে কলেজে আসেন মনিরুলের ছেলে বায়েজিদ। এ সময় প্রশাসনিক ভবনে এসে দেখি ভেতর থেকে তালা দেওয়া। তালা খুলে আমরা ভেতরে ঢুকে খোঁজাখুঁজি করি। পরে ছেলেটি মনিরুলকে কল দেন। রিংটন বেজে উঠলে তিনতলায় গিয়ে চিৎকার করে ওঠেন বায়েজিদ। এরপর রশির সঙ্গে তাকে ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেই।

বাঁশগ্রাম আলাউদ্দিন আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাজিদুল ইসলাম বলেন, দুপুরে সবাই একসঙ্গে কলেজ ত্যাগ করি। পরে সন্ধ্যায় মুঠোফোনে জানতে পারি তিনতলায় মনিরুলের মরদেহ ঝুলছে। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, কলেজের তৃতীয় তলা থেকে মনিরুলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.