গোয়াল ঘরে ফেলে রাখা মাকে উদ্ধার করলেন ইউএনও

যশোরের চৌগাছায় ছেলে ও পুত্রবধূ অসুস্থ মাকে গোয়াল ঘরে ফেলে রেখেছিলেন। খবর পেয়ে ঐ মাকে উদ্ধার করে ছেলের ফ্ল্যাটবাড়িতে তুলে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইরুফা সুলতানা। রোববার দুপুরে চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের বুড়িন্দিয়া গ্রামের আব্দুল কাদেরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় একটি সূত্রে সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলিশসহ ঐ বাড়িতে উপস্থিত হন। সরেজমিনে ঐ বাড়িতে দেখা যায়, বৃদ্ধা অসুস্থ মা গোয়াল ঘরের ময়লার মধ্যে মেঝেতে একটি কাঁথার উপর শুয়ে কাতরাচ্ছেন। গোয়াল ঘরটি ছাদের হলেও তীব্র গরমেও সেখানে নেই কোনো বৈদ্যুতিক বা হাতপাখার ব্যবস্থা।

অথচ পাশেই সম্পূর্ণ পাকা একটি ছাদের রান্না ঘরে বৈদ্যুতিক পাখার নিচে বসে বৃদ্ধার পুত্রবধূ এবং তার পুত্রবধূ (বৃদ্ধার ছেলের পুত্রবধূ) রান্না করছেন। পাশেই রয়েছে চার রুমের একটি ফ্ল্যাটবাড়ি। ঐ বৃদ্ধা ইউএনওকে জানান, প্রায় তিন-চার বছর ধরে তিনি তার চার মেয়ের বাড়িতে থাকেন। কয়েকদিন আগেও ছিলেন বরিশালে ছোট মেয়ের বাড়িতে ছিলেন। সেখান থেকে কয়েকদিন আগে আসেন চৌগাছার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের তিলকপুর গ্রামে আরেক মেয়ের বাড়িতে। সেখানে তিনি বাঁশের উপর পড়ে গিয়ে মারাত্মক আহত হন। মেয়ে-জামাই খুবই গরিব পরিবারের হওয়ায় তাকে চিকিৎসাও করাতে পারেননি। সেখান থেকে মেয়ের জামাই গত তিনদিন আগে তাকে ছেলের বাড়িতে রেখে যান। সেদিন থেকেই ছেলে ও তার বৌ বৃদ্ধাকে গোয়াল ঘরে ফেলে রেখেছেন।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা স্থানীয় কয়েকজন নারীকে সঙ্গে নিয়ে ঐ বৃদ্ধা মাকে ছেলের ফ্লাটের একটি কক্ষে তুলে দেন। এরপর ছেলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় পুত্রবধূর কাছ থেকে মুচলেকা নেয়া হয়। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। একমাত্র ছেলেও নিজের মাকে গোয়াল ঘরে গরুর মলমূত্রের মধ্যে ফেলে রেখেছেন। ঐ মাকে ছেলের ঘরে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসক দেখানোর জন্য বলা হয়েছে। এরপরও এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে ঐ ছেলে এবং পুত্রবধূর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.