আত্মনির্ভরশীল রাকা, আঁকেন চোখ ধাঁধানো আরবি ক্যালিগ্রাফি

আত্মনির্ভরশীল তরুণী ‘নাজিয়া হাসান রাকা’। জন্ম ও বেড়ে ওঠা কুমিল্লা শহরে। কুমিল্লা আওয়ার লেডী অব ফাতিমা গার্লস হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে মাধ্যমিক ও ঢাকা উত্তরা মডেল কলেজ থেকে একই বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এখন পড়ছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে ট্যুরিজম অ্যান্ড

হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট নিয়ে। ছোটবেলা থেকেই ভিন্ন মাত্রার ক্রাফটিং, নান্দনিক ছবি আঁকা, ডিজাইনিং এসব তার পছন্দনীয় কাজ। নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি এগিয়ে চলছেন তিনি।যেভাবে শুরু
রাকা আরবি ক্যালিগ্রাফি শিখেছেন শিল্পী মাহবুব মুর্শিদের কর্মশালায়। আর পেইন্টিংয়ে তার হাতেখড়ি একদম ছোটবেলায়।

নিজের আগ্রহ থেকেই শিখেন পেইন্টিং। শিল্পী মাহবুবের কর্মশালা থেকে অর্জিত জ্ঞান আর নিজের পছন্দকে পূঁজি করে ২০১৯ এর দিকে পুরো উদ্যমের সঙ্গে কাজ শুরু করেন আরবি ক্যালিগ্রাফি নিয়ে। নিজের পড়াশোনার ও ব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে কাজ করেন এসব নিয়ে। এরপর সঙ্গে যোগ করেন পেইন্টিং আর হাতের কাজের ‘হুপ’ আর্ট। শুরুটা ঠিক এভাবেই।

আরবি ক্যালিগ্রাফি

অ্যারাবিক বা আরবি ক্যালিগ্রাফি হচ্ছে আরবি হরফ ব্যবহার করে লেখন শিল্প। বর্তমানে ক্যালিগ্রাফির প্রতি সবার আগ্রহ বেড়ে চলেছে। বিশ্বে দৃশ্যমান শিল্পকলার আদি উৎস লিপি। এক সভ্যতা থেকে অন্য সভ্যতার সংযোগ, সম্পর্ক, জ্ঞান ও সংস্কৃতির সেতুবন্ধন লিপির প্রধান কাজ। আর লিপিকে শিল্পে রূপদানের ভেতর লুকিয়ে আছে সভ্যতার ঐতিহ্যকথা।

বিভিন্ন ভাষার ক্যালিগ্রাফি রয়েছে তবে রূপ-মাধুর্যে আরবি ক্যালিগ্রাফির তুলনা বর্ণনাতীত। ক্যালিগ্রাফি ইংরেজি শব্দ। এটি গ্রিক শব্দ ক্যালিগ্রাফিয়া থেকে এসেছে। গ্রিক শব্দ কার্লোস এবং গ্রাফেইনের মিলিত রূপ ক্যালিগ্রাফিয়া। কার্লোস অর্থ সুন্দর আর গ্রাফেইন অর্থ লেখা।

পেজের নাম ‘Creative Creations by Raka’

রাকা মূলত অনলাইনে তার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। অনলাইনেই প্রি-অর্ডার নেন। এরপর কাজ শেষে কুরিয়ারে ডেলিভারি দেন। তার অফিসিয়াল পেইজের নাম ‘Creative Creations by Raka’। এখান থেকেই আসে নিয়মিত কাজের অর্ডার। আরবি ক্যালিগ্রাফি, পেইন্টিং, হ্যান্ড স্টিচের বিভিন্ন শিল্পকর্মের দেখা মেলে তার পেইজে। এছাড়াও

সিগনেচার প্রোডাক্ট হুপ আর্ট ৭০টির মতো হুপ আর্ট করেছেন তিনি। রাকা চেষ্টা করেন নিজের মতো করে সাজিয়ে গুছিয়ে নিতে, তথা মৌলিকত্বের ছাপ রাখতে, যেন তার তৈরি করা প্রোডাক্টগুলোতে সবাই সর্বদা সৃজনশীলতার ভিন্নতা খুঁজে পায়।

বাবা-মা ও স্বামীর সমর্থন ও সহযোগিতা

ছাত্রজীবনে উদ্যোগী এবং আত্মনির্ভরশীল হওয়ার ক্ষেত্রে রাকার পরিবারের ভূমিকা ছিল বেশ। শিল্পজগতে প্রবেশের শুরুর দিক থেকেই বাবা-মায়ের সহযোগিতা, সমর্থন পেয়েছেন তিনি। বিয়ের পর তার স্বামীও এ কাজে তাকে সমর্থন ও সহযোগিতা করেন সবসময়৷

রয়েছে কিছু অর্জন

সৃজনশীল কাজ করে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি অর্জন করেছেন বড় সফলতা। ২০১৯ সালে রাজধানীর ঢাকার শিল্পকলায় ইন্টারন্যাশনাল উইন্টার আর্ট ফেস্টিবালে শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে তার একটি শিল্পকর্ম তাকে বেস্ট ইয়ং আর্টিস্টে স্থান করে দেয়। ২০২০ এ আরেক শিল্পকর্মের জন্য অল স্টার অ্যাওয়ার্ড পান তিনি। এসবের পাশাপাশি নিজের চোখ ধাঁধানো সব শিল্পকর্মের জন্য সহপাঠী, শিক্ষকসহ সবার কাছে প্রশংসিত হন প্রতিনিয়ত।

বহুদূর এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আত্মনির্ভরশীল রাকা ভবিষ্যতে নিজের সৃজনশীল কর্মকাণ্ড দিয়ে বহুদূর এগিয়ে যেতে চান। একজন সফল উদ্যোক্তা হয়ে দেশ ও দশের জন্য অবদান রাখার ইচ্ছেও তার।রাকা বলেন, ইনশাআল্লাহ শত ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের এই শখের কাজগুলোকে ধরে রাখব। ভবিষ্যতে চাকরির পাশাপাশি এসব নিয়ে বড় পরিসরে কিছু করব।

আমি এই সৃজনশীল কাজগুলো মন থেকে করি, খুব দরদ দিয়ে কাজগুলো করি নিজের মতো করে। চেষ্টা করি প্রতিটি কাজকে সময় নিয়ে অনেক যত্নের সঙ্গে নিখুঁত করে করার। এটাই আমার কাজের প্রধান শর্ত। কাজকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার এই ছোট্ট প্রচেষ্টাই আমার জন্য অনেক বড় একটি পাওয়া। আমি এটা বিস্তৃত পরিসরে কিছু করার স্বপ্ন দেখি।

সহপাঠী ও তরুণদের উদ্দেশ্যে রাকা বলেন, ‘ছাত্রজীবনেই সবার উচিত নতুন কিছু করে আত্মনির্ভরশীল হওয়া, স্বাবলম্বী হওয়া। প্রতিযোগিতামূলক এই বিশ্বে বসে থাকলে চলবে না। সর্বোপরি নিজের ইচ্ছেগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.