প্রেমিকের মায়ের অপমান সইতে না পেরে যা করল প্রেমিকা

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় প্রেমিকের মা ও ভাইয়ের অপমান সেইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন প্রেমিকা সুরভি আক্তার। বৃহস্পতিবার দুপুরে চরলক্ষীপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন তিনি। সুরভি উপজেলার রুদ্রকর ইউপির চরলক্ষীপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর ওঝার মেয়ে। তিনি স্থানীয় সুবচনী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।

জানা যায়, রুদ্রকর ইউনিয়নের সোনামুখী গ্রামের মৃত মজিদ তালুকদারের ছেলে আল-আমিন তালুকদার ও সুরভি একই বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়েন। এই সুবাধে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। বিষয়টি উভয় পরিবারে জানাজানি হলে আল-আমিনকে তার পরিবার ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়। এরপরও তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলতে থাকে।

ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলে যান সুরভি। এ সময় আল-আমিনের মা পারভিন বেগম ও বড় ভাই পারভেজ তালুকদার স্কুলে গিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের সামনে সুরভিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তারা তাকে জুতোপেটা করেন। পরে অসুস্থ হলে প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন তার দপ্তরীকে দিয়ে সুরভিকে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।

দুপুরের দিকে সুরভি আত্মহত্যা করে। সুবচনী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, ওই বিষয়ে আমি জানতাম না। তবে সুরভি শরীর অসুস্থ বললে, তাকে আমি দপ্তরী দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেই। পরে শুনি আত্মহত্যা করেছে। এমন হবে ভাবতেই পারিনি।

সুরভির মা ডলি বেগম বলেন, স্কুলের অন্য শিক্ষার্থীদের সামনে আল-আমিনের মা পারভীন ও ভাই পারভেজ আমার মেয়েকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। আবার জুতা দিয়ে পিটিয়েছে। মেয়ে এমন অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। আমার মেয়েকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করানো হয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন আল-আমিনের মা ও ভাই। রুদ্রকর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ঢালী বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে আমার কাছে দুই পরিবারের কেউ আসেনি। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শরীয়তপুর সদরের পালং থানার ওসি আক্তার হোসেন বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.