তিনি দিনে এসআই-রাতে ওসি, আছে দেহরক্ষীও!

কখনো এসআই, কখনো থানার ওসি, আবার কখনো অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বড় কর্মকর্তা পরিচয়ে বিভিন্ন মানুষকে দিতেন ফোন। এরপর সমস্যা সমাধান কিংবা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে আদায় করতেন টাকা। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন বেলাল।

তবে কথায় আছে- চোরের দশ দিন হলেও গেরস্তের একদিন আসে। সেই কথার মতো করেই দশ দিন চুরির পর এবার সহযোগীসহ ধরা পড়েছেন বেলাল।বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে

অভিযান পরবর্তী নানা তথ্য তুলে ধরেন র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ। এর আগে, বুধবার রাতে ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক বেলাল ফটিকছড়ির বক্তপুর এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে। তার সহযোগী মোহাম্মদ ওসমান একই উপজেলার ভূজপুর থানার পশ্চিম সুয়াবিল এলাকার এজাহার মিয়ার ছেলে।র‍্যাব জানায়, ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় খোরশেদুল আলমের

মোবাইলে ফোন দিয়ে এসআই পরিচয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও পরিবারের সদস্যদের মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন এক ব্যক্তি। এমন হুমকিতে ভয় পেয়ে বিকাশের মাধ্যমে তাকে ২০ হাজার ৪০০ টাকা পাঠান খোরশেদ।

কিন্তু বিষয়টি এখানেই শেষ হয়নি। পরদিন আবারো ফোন দিয়ে থানার ওসি পরিচয়ে টাকা দাবি করেন ওই ব্যক্তি। এরপর বিকাশের মাধ্যমে তিন হাজার ৬০ টাকা পাঠান খোরশেদ।এবার আর একদিন পর নয়, সেদিনই সার্কেল এএসপি পরিচয়ে আবারো ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন একই ব্যক্তি। এবারো আগের মতো করে ২৯ হাজার ৫৮০ টাকা পাঠিয়ে দেন খোরশেদ।

এভাবে তিন দফায় খোরশেদের কাছ থেকে অর্ধলক্ষ টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়ে এবার র্যা ব কর্মকর্তা পরিচয় দেন সেই ব্যক্তি। মামলাটি র‍্যাবের কাছে এসেছে জানিয়ে আবারো দাবি করেন টাকা।একপর্যায়ে সন্দেহ হলে বিষয়টি র‍্যাবকে অবহিত করেন খোরশেদ। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রতারককে ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে

র‍্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেলালকে আটক করা হয়। পরে বেলালের দেওয়া তথ্যে তার অন্যতম সহযোগী ও কথিত দেহরক্ষী মোহাম্মদ ওসমানকে আটক করা হয়। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে খোরশেদুল আলমের কাছ থেকে ৫৩ হাজার ৪০ টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন বেলাল।

র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ জানান, বেলাল আগে মুরগির খামার করতেন। ২০২১ সালে প্রথম প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেন। শুরুতে বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতজনদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ভয় দেখাতেন। ২০২১ সালের মে মাসে সয়াবিন তেলের ডিলার সেজে এক মুদি

দোকানির কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেন। এছাড়া ইউপি নির্বাচনের আগে মেম্বার পদ প্রার্থীদের মোবাইলে ফোন করে থানার ওসি পরিচয়ে নির্বাচনে সহযোগিতা করার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন।

সর্বশেষ রাউজানে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবার কাছ থেকে ময়নাতদন্তের ঝামেলা এড়ানোর কথা বলে পাঁচ হাজার টাকা আদায় করেন। এভাবে গত দেড় বছরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ার কথা জানিয়েছেন বেলাল। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.