সেই প্রেমিকের ‘মৃত্যু’ নিয়ে যা বললেন প্রেমিকার মা

পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক কাজলের। শুক্রবার রাতে দেখা করতে প্রেমিকার নানা বাড়িতে আসার কথা ছিল কাজলের। ফোনও করেছিলেন প্রেমিকা। কিন্তু এভাবে দেখা হবে তা ভাবতেও পারেননি প্রেমিকা। রাত সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ প্রেমিকা দেখতে পান জানালার সঙ্গে ঝুলছে কাজল। ঘটনাটি শরীয়তপুরের ডামুড্যার। তবে প্রেমিক কাজলের পরিবারের দাবি, তাকে ডেকে নিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। সরোয়ার হোসেন কাজল উপজেলার কনেশ্বর ইউপির মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।

ওই প্রেমিকার মা বলেন, আমি কিছু জানি না। আমার মেয়ে কাজল মারা যাওয়াতে পাগলের মতো করছে। ওকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছি। জানা যায়, ওই মেয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল কাজলের। বিষয়টি মেয়ের পরিবার জানলেও ছেলের পরিবার জানতেন না। কাজল বৃহস্পতিবার রাতে নোয়াখালী থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন। শুক্রবার রাতে কাজলকে ফোন করে প্রেমিকা তার নানাবাড়িতে আসতে বলেন। কাজলের বাড়ির পাশেই তার নানাবাড়ি। রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রেমিকার চিৎকারে এলাকার লোকজন এসে কাজলকে জানালার সঙ্গে ঝুলতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। এ সময় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

কাজলের ভাই শহিদুল বলেন, আমার ভাই ওই মেয়ের সঙ্গে প্রেম করত তা আমরা জানতাম না। মানুষের মুখে শুনেছি ওদের নাকি পাঁচ বছরের সম্পর্ক ছিল। কখনো আমার ভাই পরিবারের কাছে বলেনি। গত রাতে খাওয়া শেষ করে ঘুমিয়েছিল। হঠাৎ ফোন আসায় ও বাসা থেকে বের হয়ে যায়। রাত ১টার দিকে হাসপাতাল থেকে ফোন দেয়। আমরা সেখানে গিয়ে ওর লাশ দেখতে পাই। ওই মেয়ে আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই।

ডামুড্যা থানার ওসি শরীফ আহমেদ বলেন, আমরা হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.