দাওয়াত না দেয়ায় শোকসভার মঞ্চ গুঁড়িয়ে দিলেন আ.লীগ নেতা

এবার ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজিত শোকসভার মঞ্চটি গুঁড়িয়ে দিয়েছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক। আজ বৃহস্পতিবার ২৫ আগস্ট বেলা ১১টার সময় সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের মমিনখার হাটে ময়েজউদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত বঙ্গবন্ধু’র ৪৭তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও কাঙ্গালি ভোজের অনুষ্ঠানের নির্মাণাধীন অস্থায়ী মঞ্চটি ভেঙে দেয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শামসুল হক ভোলা মাস্টার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিলেন- ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাজাহান ব্যাপারী, সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম ব্যাপারী, ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি পলাশ ব্যাপারীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দগণ। এদিকে মঞ্চ ভাঙার সময় প্রতিবাদ করলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার নজরুল ইসলামকে মারধর করা হয়। খন্দকার নজরুল ইসলাম জানান, জাতীয় শোকের মাসে আমরা ২৬ তারিখে শোক সভা ও কাঙ্গালি ভোজের আয়োজনে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এই সময় কেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানানো হয়নি এই অভিযোগ তুলে তিনি ও তার লোকজন এসে মঞ্চ ভেঙে চলে যায়। আমি প্রতিবাদ করলে আমাকে মারধর করা হয়।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আরও বলেন, মঞ্চ ভাঙার সময় ভোলা মাস্টার উচ্চকণ্ঠে বলেন, ‘আমি এখানকার বড় আওয়ামী লীগের নেতা, তোরা কিভাবে আমার চেয়ে বড় নেতা হইলি, কার নির্দেশে এই আয়োজন করা হচ্ছে।’

এরপর খবর পেয়েই কোতোয়ালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা পুলিশের সদর সার্কেল সুমন রঞ্জন কর জানান, খবর পেয়েই পর্যাপ্ত পুলিশ আমরা ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। এখন উভয় গ্রুপ উত্তপ্ত অবস্থায় রয়েছে। পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ইশতিয়াক আরিফ জানান, এটি একটি জঘন্যতম কাজ। আমরা এর কঠোর নিন্দা জানাই। বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই দলীয় সভায় আলোচনা হবে, যে ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুর শোক সভার মঞ্চ ভাঙতে পারেন তিনি অবশ্য আওয়ামী লীগ করতে পারেন না। এদিকে জাতীয় শোক দিবসের শোক সভা ও কাঙ্গালি ভোজের মঞ্চ ভাঙা প্রসঙ্গে জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শামসুল হক ভোলা মাস্টার বলেন, শোকসভার মঞ্চ ও যেখানে হয়েছে আমি নিষেধ করেছিলাম সেখানে না করার জন্য, কারণ সেটি স্কুলের মাঠ। বাচ্চাদের খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হবে।

আয়োজনকারীরা আমার কথা শুনেনি আমি বারবার নিষেধ করার পরেও। যে কারণেই তাদের সঙ্গে আমার দুর্ব্যবহার করতে হয়েছে। আমি বিষয়টি সঠিক করিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.