অণুজীব বিজ্ঞানী হতে চান দুটি হাত ও একটি পা বিহীন মেধাবী তামান্না

জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার লক্ষ্যে নানা প্রতিবন্ধকতা জয় করে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করা এক যোদ্ধার নাম তামান্না আক্তার নুরা। যশোর জেলার গর্ব, অদম্য মেধাবী তামান্নার এক পা-ই সম্বল। জন্ম থেকেই তার দুটি হাত ও একটি পা নেই। এক পায়ে লিখে পিইসি, জেএসসি, এসএসসিতে ও এইচএসসি পরীক্ষাতে জিপি-৫ পাওয়া তামান্না এবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত গুচ্ছ-পদ্ধতির স্নাতক ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এ-ইউনিটের (বিজ্ঞান বিভাগ) ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

শনিবার (৩০ জুলাই) থেকে শুরু হয় ২২টি সাধারণ ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা। যবিপ্রবিতে দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ-ইউনিটের (বিজ্ঞান বিভাগ) এই ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন তামান্না। পরীক্ষা শেষে তার অনুভূতি জানতে চাইলে তামান্না বলেন, আমার পরীক্ষা ভাল হয়েছে, আমি আশাবাদী ভালো কিছু হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন বিশেষ করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন স্যার আমাকে মানসিকভাবে অনেক সাপোর্ট দিয়েছেন।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত গুচ্ছ-পদ্ধতির স্নাতক ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নেন তামান্না
তার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও কোন বিষয়ে পড়তে চান এই বিষয়ে জানতে চাইলে তামান্না বলেন, যদিও আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অনেক ইচ্ছে ছিল কিন্তু আমার শারীরিক অবস্থা ও সার্বিক বিষয় বিবেচনা করলে আমরা পক্ষে ওখানে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব। আমি যশোরে থেকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগে পড়ালেখা করতে চাই। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যাতে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এখানে ভর্তি হতে পারি।

উল্লেখ্য, তামান্না যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা রওশন আলী ও খাদিজা পারভীন শিল্পী দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.