সন্তানের সামনে মাকে গণধর্ষণ: গ্রেফতার আরো দুই

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে সন্তানের সামনে নারীকে গণধর্ষণের মামলায় আরো দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
হরিপুর থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে শনিবার হরিপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। গ্রেফতাররা হলেন- হরিপুর উপজেলার বকুয়া ইউনিয়নের চাপধা (তুলাদিঘী) গ্রামের সেন্টুর ছেলে রকিম ওরফে কাঠকাঠ ও মানিকখাড়ি গ্রামের রশিরের ছেলে লস্কর।

এর আগে, গত শনিবার হাটপুকুর গ্রামের সলেমান আলীর ছেলে ফজলুর রহমান, চাপধা পিপলা গ্রামের করিমুল ইসলামের ছেলে রিসাদ (১৯) ও একই এলাকার গুচ্ছগ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে আকাশকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, অভিযুক্ত পাঁচজন আসামি মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে এক ও গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে আরো দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা তিনজনেই জবানবন্দিতে তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করেন।

এছাড়া পলাতক আরো দুই আসামিকে সোমবার গ্রেফতার করে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ম্যাজিস্ট্রেট তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এ সময় আসামিরা ২২ ধারায় জবানবন্দিতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেন। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

জানা যায়, ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর দক্ষিণ পাড়িয়া এলাকায় থাকেন ওই নারী। তিনি গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার সাত বছর বয়সী ছেলে মাসুমকে নিয়ে হরিপুর উপজেলার রুহিয়াতে স্বামীর বন্ধুর বাড়ি থেকে বোনের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। হরিপুর উপজেলার কামারপুকুর অটোস্ট্যান্ড থেকে ওই নারীকে অটো যোগে অপহরণ করে উপজেলার বকুয়া ইউনিয়নের চাপধা বাজারের পূর্ব-উত্তর পাশে আনোয়ার মাস্টারের আম বাগানের ভেতরে নিয়ে যায়। বাগানে ভেতরে ছেলে মাসুমের গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ওই গৃহবধূকে অপহরণকারীরা পর্যায়ক্রমে গণধর্ষণ করে।

পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তারা ওই গৃহবধূ ও তার ছেলেকে রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যাবার সময় স্থানীয় লোকজন ফজলুর রহমানকে আটক করে ৯৯৯ কল দেন। পরে ফজলুর রহমান ও ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে হরিপুর থানা পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে আরও দুই অভিযুক্ত রিসাত ও অটোচালক আকাশকে গ্রেফতার করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.