যশোরের চৌগাছায় শতবর্ষী এক মায়ের লাশ দাফন নিয়ে তিন ছেলের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের তজবীজপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজের হস্তক্ষেপে পুলিশ গ্রামে গিয়ে ঐ তিন ভাইকে থানায় নিয়ে আসে। সেখানে আপস-মীমাংসা শেষে রাত ১১টায় জানাজা শেষে দাফন করা হয় সেই মাকে।

এর আগে, শতবর্ষী ঐ মা আছিরণ বেগমের নামে থাকা দুই কোটি টাকা মূল্যের আট বিঘা জমি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি করে লিখে নিয়ে একটি ভাঙাচুরা টিনের ঘরে মলমূত্রের মধ্যে তাকে ফেলে রেখেছিল তজবীজপুর গ্রামের বজলুর রহমান ও ফজলুর রহমান নামে দুই ছেলে। তারা বৃদ্ধার অন্য দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে বঞ্চিত করেন। পরে গত ২২ জুন এ সংবাদ পেয়ে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা ঐ মাকে মলমূত্রের মধ্যে থেকে ছেলে বজলুর রহমানের ফ্ল্যাট বাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে আসেন। এরপরও মাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতে থাকেন বজলু ও ফজলু।

বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) মৃত্যু হয় ঐ মায়ের। দুপুরে মৃত্যু হলেও মা আছিরণের অছিয়ত না মেনে অন্য জায়গায় কবর খোঁড়ার ব্যবস্থা করেন দুই ছেলে বজলু ও ফজলু। এ নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন আছিরণের সেজো ছেলে জামির হোসেন, হারিয়ে যাওয়া অন্য ছেলের দুই মেয়ে এবং নাতি নাতনিরা। তারা আছিরণের অছিয়ত অনুযায়ী তার স্বামীর কবরের পাশে (চৌগাছা-কোটচাঁদপুর) সড়কের তজবীজপুর গ্রামে কবর দিতে চাইলেও বজলু ও ফজলু এবং তাদের সন্তানেরা গ্রামের মাঠের মধ্যে অন্য নির্জন স্থানে কবর খুঁড়ে রেখে সেখানে কবরস্থ করতে অটল থাকেন। এ নিয়ে তারা মারামারিতে লিপ্ত হয়। পরে বিষয়টি থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়।

চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজের নির্দেশে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে আসে। সেখানে রাত দশটা ১৫ মিনিটের দিকে আপস-মীমাংসা শেষে বজলুর রহমান ও ফজলুর রহমানদের খুঁড়ে রাখা কবরেই আছিরণকে কবরস্থ করার বিষয়ে অন্যরা একমত হন। পরে রাত ১১টায় তজবীজপুর গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে লাশ দাফন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ বলেন, আপস-মীমাংসা শেষে রাত ১১টায় ঐ মায়ের জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে বড় দুই ছেলের খুঁড়ে রাখা কবরেই সবার সম্মতিতে লাশ দাফন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.