যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগে স্ত্রী রাহিমা খাতুনের করা মামলায় আদালতে আসেন স্বামী নুরুজ্জামান দেওয়ান। এ সময় মামলার বাদী রাহিমাও আদালতে আসেন। কিন্তু এ মামলার শুনানির আগেই স্ত্রীকে আদালতপাড়ায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছেন স্বামী নুরুজ্জামান। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। এ সময়

নুরুজ্জামান ও তার সহযোগী কামরুল ইসলামকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে সাধারণ জনতা।
বৃহস্পতিবার ঢাকার নিম্ন আদালতপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। রাহিমার বড় বোন মোসা সারমিন আক্তার কোতয়ালী থানায় মামলা করেন। এ মামলায় দুইজনের একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, নুরুজ্জামান ভিকটিম রাহিমা খাতুনকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৮ সালের মার্চে কক্সবাজার নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীকে রাহিমাকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করা হয়।এরপর আপস-মীমাংসার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ৪ এপ্রিল তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে নুরুজ্জামান

যৌতুকের জন্য রাহিমাকে শারীরিক-মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। গত বছরের ১০ মার্চ রাহিমাকে মেরে রক্তাক্ত জখম করেন নুরুজ্জামান। এ ঘটনায় রাহিমা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলা করেন, যা আদালতে বিচারাধীন।

বুধবার মামলাটি শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। রাহিমা কোর্টে আসবেন জেনে সারমিন আক্তারও সকাল সোয়া ৯টার দিকে বাসা থেকে রওনা দেন। সাড়ে ১০টার দিকে অ্যাডভোকেট রুবেল মিয়া রাহিমার মোবাইল থেকে সারমিনকে ফোন করেন।
তিনি বলেন, রাহিমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন। সারমিনকে দ্রুত সেখানে যেতে বলেন।

সারমিন সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাহিমা কোর্ট এলাকায় এসে তার আইনজীবীর চেম্বারে যাচ্ছিলেন। সাড়ে ৯টার দিকে কোতয়ালী থানার ১৬/৩ কোর্ট হাউজ স্ট্রিট, মানিক স্টোরের সামনে নুরুজ্জামানের সঙ্গে দেখা হয়। তখন মামলা তুলে নিতে তাকে হুমকি-ধামকি এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। রাহিমা এর প্রতিবাদ

করলে নুরুজ্জামান তাকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। পরে রাহিমা উঠে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে কোমর থেকে দা বের করে রাহিমাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন নুরুজ্জামান। রাহিমা লুটিয়ে পড়লে কামরুল হাতুড়ি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.