চুলকানি, জ্বালাপোড়া, লাল ছোপ, ফুসকুড়ি ইত্যাদি খুব বিরক্তিকর সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময়ে এর ফলে ত্বকের স্বাভাবিক রং হারিয়ে যায়। আর শরীরের যে কোনো জায়গার ত্বকেই এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এই সময় চর্মরোগের বাড়াবাড়ি থেকে বাঁচতে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে পারেন। এছাড়া কোনো চর্মরোগ দেখা দিলে ঘরেই তার সমাধান করতে পারেন। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক এমন কয়েকটি চর্মরোগের সমাধান সম্পর্কে-

অ্যাথলেট ফুট
এটি একটি ছত্রাকজনিত রোগ। সাধারণত পায়ের পাতা কিংবা দুই আঙুলের মাঝখানে চুলকানি বা জ্বালা অনুভূত হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এই সমস্যার ক্ষেত্রে পা সাবান দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। অ্যান্টি ফাংগাল ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে এবং খোলা জুতা পরতে হবে।

দাদ
চামড়ার উপর গোল চাকার মতো লালচে ক্ষতস্থান সৃষ্টি হয় এই রোগে। ক্ষতস্থানে চুলকানি হয়। ঘাড়, পায়ের পাতা, বগলে এই ধরনের ক্ষত হতে পারে। সেক্ষেত্রে পরিষ্কার জামা কাপড় পরতে হবে। ক্ষতস্থানে কাটাছেঁড়া করা যাবে না। অ্যান্টি ফাংগাল ক্রিম লাগাতে হবে।

একজিমা
ত্বকে জ্বালা, ত্বক ফেটে যাওয়া, চুলকানি এগুলো একজিমার লক্ষণ। এই ক্ষেত্রে নারিকেলের তেল লাগালে আরাম পেতে পারেন। এছাড়া সব সময় সুতির কাপড় পরার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

টিনিয়া ক্যাপিটিস
এই রোগে মাথার ত্বকে দাদ হয়। তবে এই ছত্রাকজনিত রোগের ফলে ক্ষত স্থান দেখা যেতে পারে ভ্রু, দাড়িতেও। অ্যান্টি ফাংগাল শ্যাম্পু এক্ষেত্রে কার্যকরী হতে পারে।

চুলকানিতে ঘরোয়া চিকিৎসা

>>> লেবু ও বেকিং সোডা দিয়ে তৈরি পেস্ট চুলকানি হওয়া স্থানে লাগালে চুলকানি কমে। দুই চামচ বেকিং সোডা ও এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ৫ থেকে ১০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন গোসলের আগে এই পেস্টটি ব্যবহার করলে চুলকানি কমে যাবে।
>>> ত্বকের জন্য দারুণ ভালো উপকার দেয় চন্দন। উন্নত মানের চন্দনের গুঁড়ার প্রলেপ চুলকানির স্থানে লাগিয়ে রাখলে উপকার পাবেন।

>>> নিমে আছে অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল গুণ। ত্বকের যে কোনো চুলকানি কমাতে পারে নিম বেশ উপকারি। নিম পাতা বেটে ত্বকে প্রলেপ লাগান। উপকার পাবেন। আর ত্বকের ফোলাভাব কমায় নারকেল তেল। এতে ত্বক কোমল হয়। চুলকানিও কমে। হাতের তালুতে সামান্য নারকেল নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে চুলকানির স্থানে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.