চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে স্বামীর সঙ্গে রাগ করে শিশুপুত্রকে নির্যাতন করে সেই ভিডিও স্বামীর কাছে পাঠায়। আর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। পরে নির্যাতনের শিকার শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বুধবার দুপুরে মা-সহ ওই শিশুকে আদালতের হেফাজতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি মো. আবদুল মান্নান। জানা যায়, উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউপির হাড়িয়া গ্রামের নূরুল আমিনের কন্যা পারভীন আক্তারের সঙ্গে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার আশিয়াদারি গ্রামের আ. করিমের ছেলে প্রবাসী মহিনউদ্দিনের সঙ্গে ৩ বছর আগে বিয়ে হয়।

তাদের সংসারে ফাহাদ নামের একটি শিশুপুত্র রয়েছে। বিয়ের ১ বছর পর থেকে তাদের দাম্পত্য কলহ দেখা দিলে স্ত্রী পারভীন আক্তার বাবার বাড়িতে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। লিগ্যাল এইড কার্যালয়, চাঁদপুরের সিদ্ধান্ত মতে ভরণপোষণ বাবদ প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। প্রবাসী স্বামী মহিনউদ্দিন ঠিকমতো ওই টাকা না দিতে পারায় সম্প্রতি পারভীন তাদের দুই বছরের শিশুপুত্র ফাহাদকে নির্যাতন করে তার ভিডিও ধারণ করে স্বামীকে পাঠায়। শিশুর বাবা ওই ভিডিও দেখে সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মনোহরগঞ্জ এলাকার জনগণকে অনুরোধ করেন।

এরইমধ্যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আইন শৃংখলা সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টিতে আসে। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে শাহরাস্তির ইউএনও মো. হুমায়ন রশিদ, ওসি মো. আবদুল মান্নান ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু ইসহাক উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান মো. জোবায়েদ কবির বাহাদুরকে নিয়ে শিশুর নানার বাড়ি হাড়িয়া গ্রামের দুলাল মেম্বারের বাড়িতে যান। সেখান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়।

শিশুর মা পারভীন আক্তার জানান, বিয়ের পর থেকে তার স্বামী বহু নারীতে আসক্ত। এসবের প্রতিবাদ করায় তিনি তাদের ভরণপোষণ বন্ধ করে দেন। স্বামীকে শিক্ষা দিতেই তিনি শিশুপুত্রকে নির্যাতন করে ভিডিও পাঠিয়েছেন। শিশুর দাদা আ. করিম জানান, অনেক চেষ্টা করেও পুত্রবধূর উগ্র চলাফেরা বন্ধ করা যায় নি। পুলিশ উদ্ধার না করলে নাতিকে হয়তো মেরেই ফেলতো। ওসি মো. আবদুল মান্নান বলেন, শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। নিকটাত্মীয় বা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তার নিরাপত্তা হেফাজত নিশ্চিত করতে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। নির্যাতনকারী মাকে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইউএনও মো. হুমায়ন রশিদ বলেন, ভাইরাল ভিডিওর প্রেক্ষিতে রাতেই শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা পেলে বাকী কাজ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.