শ্রবণ প্রতিবন্ধী রিনা আক্তার। বাবা-মাও মারা গেছেন। তাই একাই থাকতেন ঝুপড়ি ঘরে। এরই মধ্যে একই গ্রামের রেজাউল তার বাড়িতে যাতায়াত করেন। সরল বিশ্বাসে রেজাউলকে বিয়ে করেন তিনি। সংসারেও করেন ১৮ মাস। কিন্তু হঠাৎ একদিন রিনার কান্নায় ছুটে যান প্রতিবেশীরা। জানতে পারেন গচ্ছিত ৩০ হাজার টাকা ও রিনার নামে একটি এনজিও থেকে লোন করা ৪০ হাজার টাকা নিয়ে উধাও রেজাউল। এমনকি কাবিননামাটি ভুয়া। ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানাধীন মধুপুর গ্রামে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রুহিয়া থানায় একটি অভিযোগ করেছেন রিনা। অভিযুক্ত রেজাউল করিম একই গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, বাবা-মা মারা যাওয়ার পর একটি ঝুপড়ি ঘরে একাই থাকতেন রিনা। কোনো নিকট আত্মীয় না থাকায় প্রতিবেশীরাই তার খোঁজখবর রাখতো। কিছুদিন ধরে রেজাউল রিনার বাসায় যাতায়াত করতেন। রেজাউল কেনো ওই বাসায় যাতায়াত করে জানতে চাইলে রিনা বিয়ে করেছেন বলে গ্রামবাসীকে জানান। ওই সময় প্রমাণ স্বরূপ একটি কাবিননামাও বের করে দেখান রেজাউল। ভালই চলছিল তাদের ১৮ মাসের সংসার।

কিন্তু হঠাৎ একদিন রিনার কান্নায় ছুটে যান প্রতিবেশীরা। জানতে পারেন রিনার কাছে গচ্ছিত থাকা ৩০ হাজার টাকা ও রিনার নামে একটি এনজিও থেকে লোনের ৪০ হাজার টাকা নিয়ে উধাও রেজাউল। পরে খোঁজখবর নিয়ে তারা জানতে পারেন বন্ধুদের সহায়তায় ভুয়া কাবিনে একটি নাটকীয় বিয়ের আয়োজন করেন রেজাউল। রিনা আক্তার বলেন, আমার স্বামী আমাকে অস্বীকার করছে। তাকে আর খুঁজে পাচ্ছি না। জানতে পেরেছি রেজাউল এর আগেও চারটি বিয়ে সাজিয়ে একইভাবে টাকা-পয়সা নিয়ে ধোঁকা দিয়েছে। আমি তার বিচার চাই। তাই থানায় একটি অভিযোগ করেছি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শাজাহান আলী বলেন, রীনা আমার কাছে অভিযোগ করেছে। পরে আমি সেটা যাচাই করে দেখি আসলেই ভুয়া কাবিন দেখিয়ে রীনার সঙ্গে সংসার করছিল রেজাউল। আমি রীনাকে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেই। এদিকে অভিযুক্ত রেজাউল করিমের খোঁজ করা হলেও পাওয়া যায়নি।

রুহিয়া থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.