চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় সাপের কামড়ে দুই মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার চন্দ্রবাস নূরানিয়া হাফিজিয়া কওমি মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (১ আগস্ট) সকাল পৌনে ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। ওই দুই ছাত্র হলো- দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহ ইউনিয়নের চন্দ্রবাস ডাক্তার পাড়ার সাইফুল ইসলামের ছেলে আব্দুল্লাহ (১৩) এবং একই গ্রামের মাঝের পাড়ার শওকত আলীর ছেলে জুনায়েদ (১২)।

মাদরাসার মুহতামিম হাজী আক্তার ফারুক বলেন, ভোরের দিকে আব্দুল্লাহ ও জুনায়েদকে বমি করতে দেখেন এক শিক্ষক। জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায়, তাদের সাপে কামড় দিয়েছে। এ সময় আব্দুল্লাহর ডান পায়ে এবং জুনায়েদের বাম হাতে সাপের কামড়ের চিহ্ন দেখতে পান তিনি। মাদরাসার অন্যান্য শিক্ষকদের সহযোগিতায় তাদের প্রথমে গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে নেয়া হলে তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। পরে তাদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর দুইজন মারা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময় ঘুমন্ত অবস্থায় সাপে তাদের কামড় দিয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য কেরামত আলী বলেন, জুনায়েদ আমার ফুফাত ভাইয়ের ছেলে। সে রোববার মাদরাসায় ভর্তি হয়েছে। রাতে দুই শিশু দুই স্থানে ঘুমিয়ে ছিল। ঘুমের মধ্যেই সাপে কামড় দিয়েছে। সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়। তিনি আরো বলেন, জুনায়েদের বাবা কাঠমিস্ত্রি। দুই ভাই-বোনের মধ্যে জুনায়েদ ছোট। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা-মা পাগলপ্রায়। দুইজনের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আব্দুল কাদের বলেন, সকাল ৭টার দিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুই মাদরাসাছাত্রকে ভর্তি করা হয়। সকাল পৌনে ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়। সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, মৃত্যুর বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ-খবর নিচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.