জন্মগতভাবেই দুই হাত ও এক পাবিহীন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তামান্না আক্তার নুরা। এই প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তিনি। শনিবার দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনের কেন্দ্রীয় গ্যালারিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন তামান্না।

তামান্না যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া আলীপুরের রওশন আলী ও খাদিজা পারভীন শিল্পী দম্পতির সন্তান। অদম্য এই তরুণী শুধুমাত্র একটি পা দিয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সবকটি পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে চমক দেখিয়েছিলেন। তার এই সাফল্যে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহেনা খোঁজ নিয়েছিলেন। একইসঙ্গে তারা দুই বোন তামান্নার স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসেন। তার চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থাও করেছিলেন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা।

তামান্নার বাবা রওশন আলী বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে তামান্না খুব মেধাবি। নিজের ইচ্ছাশক্তি দিয়েই এই জায়গায় এসেছে। অনেক কষ্ট ও মেধার জোর দিয়ে সবকটি পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। তার স্বপ্ন গবেষণাধর্মী কোনো বিষয়ে পড়াশোনা করে বিসিএস দিয়ে সরকারি চাকরি নেওয়ার। স্বপ্ন পূরণে কয়েক মাস আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলো। দুর্ভাগ্য সেখানে তার চান্স হয়নি। শনিবার যবিপ্রবিতে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। পরীক্ষা ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছে তামান্নার বাবা। তামান্না ভর্তির সুযোগ পাবে বলেও আশা করছেন।

শনিবার (৩০ জুলাই) গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ‘এ’ ইউনিটের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন গুচ্ছভুক্ত অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো যবিপ্রবিতে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ পরীক্ষার প্রথম দিন ‘এ’ ইউনিটে যবিপ্রবিতে আসন পড়ে ৩ হাজার ৮৬১ জন শিক্ষার্থীর। এর মধ্যে যবিপ্রবিতে ৯৬ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন বলে পরীক্ষা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.