ছোট থাকতেই হারিয়েছেন বাবাকে। মা আর বোন কানাডায় থাকলেও চাচার বাড়িতেই বেড়ে উঠছিল ছেলেটি। এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে তারও কানাডায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিমিষেই সব শেষ করে দিল একটি ভ্রমণ। ঝরনা দেখতে গিয়ে ফিরলেন নিথর দেহে।
বলছি চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত মাইক্রোবাসের ১১ যাত্রীর মধ্যে থাকা মোসআব আহমেদ হিশামের কথা। হিশামের চাচার নাম আকবর হোসেন মানিক। হিশামের বাড়ি হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের খন্দকিয়া গ্রামে। ভাতিজার পড়ার টেবিলে বসে আহাজারি করতে করতে বলেন, হিশামকে আমার কাছে আমানত দিয়ে গেছেন তার মা। তিন বছর ধরে আমার কাছে ছিল। হিশাম মারা গেছে, এখন আমি তার মায়ের কাছে কী জবাব দেব।

তিনি বলেন, ভাতিজা ঘুরতে যাওয়ার আবদার করায় না করিনি। বাসা থেকে যাওয়ার আগে কি কাপড় পরবে জিজ্ঞেস করেছিল। খৈয়াছড়া পৌঁছে আমাকে কল দিয়েছিল। এরপর আর কোনো কথা হয়নি। আকবর হোসেন মানিক বলেন, ভাইয়ের ছেলে হলেও সে আমার নিজের ছেলের চেয়ে বেশি ছিল। তিন বছর আগে তার মা কানাডা চলে যান। এরপর থেকে হিশাম সারাক্ষণই আমার সঙ্গে থাকতো। মা, ভাই, বোন কেউ না থাকলেও কখনো উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা করেনি। তার সবকিছু ছিল গোছানো। তিনি আরো বলেন, হিশামকে কানাডা নেয়ার জন্য তার মা কাজ শুরু করেছিলেন। এসএসসি পরীক্ষার পর তাকে কানাডায় নেয়ার কথা ছিল।

জানা গেছে, হিশামের বয়স দুই বছর থাকতেই মারা যান বাবা মোজাফফর আহমেদ। তারা দুই বোন ও দুই ভাই। হিশাম সবার ছোট। বড় ভাই জিহাদ আহমেদ স্পেনে থাকেন। মা জাহেদা বেগমের সঙ্গে সাজিয়া আফরিন জুমু কানাডায় থাকেন। এক বোন রিফাত আফরিন জয়া ঢাকায় শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। লেখাপড়ার কারণে চাচার সঙ্গে থেকে যান হিশাম। কে এস নজু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল তার।

হিশামের বোনের জামাই হাছান মাহমুদ বলেন, হিশামকে জেএসসি পরীক্ষায় পর ঢাকায় নিয়ে পড়ালেখা করাতে চেয়েছি। সেখানে একটি কোচিং সেন্টার ও ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি করে দিয়েছিলাম। কিন্তু ঢাকায় সে থাকেনি। ঢাকায় ভালো না লাগায় গ্রামে ফিরে যায়। আমার আর তার বোনের চট্টগ্রামে আসার কথা ছিল আগামী মাসে। কিন্তু কি থেকে কি হয়ে গেল। এসএসসি পরীক্ষার পর তার কানাডায় যাওয়ার কথা ছিল।হিশামের চাচা মোহাম্মদ হোসেন বলেন, শুক্রবার রাতে তার মাকে মৃত্যু সংবাদটি জানানো হয়েছে। এরপর থেকে তার মা জাহেদা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।

হাশিমের চাচাতো ভাই জোরাইছ উদ্দিন বলেন, হিশাম খুব ভালো ছিল। আমরা শহরে থাকি। গ্রামে গেলে তার সঙ্গে আড্ডা দিতাম। তার মধ্যে কোনো অহংকার ছিল না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.