অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে জেরা করে একের পর এক সম্পত্তির হদিশ পাচ্ছেন ইডি আধিকারিকরা। সেখানে হানা দিতেই প্রকাশ্যে আসছে একাধিক তথ্য। মোট ১২ থেকে ১৫ টি ফ্ল্যাট রয়েছে অর্পিতার নামে। জানা যাচ্ছে, নয়াবাদে ইডেন রেসিডেন্সির ফ্ল্যাটে প্রায়ই যেতেন অর্পিতা। তবে চিনার পার্কের ফ্ল্যাটে বিশেষ দেখা যায়নি তাঁকে।

গ্রেপ্তারির পরই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ অর্পিতা তদন্তে সহযোগিতা করছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই একাধিক সম্পত্তির হদিশ পায় ইডি। বৃহস্পতিবারই চিনার পার্ক, নয়াবাদ-সহ অর্পিতার বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায় ইডি। নয়াবাদের ফ্ল্যাটের আবাসিকদের সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। সেখানেই একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গিয়েছে। জানা গিয়েছে প্রায়ই নয়াবাদের ওই ফ্ল্যাটে যেতেন অর্পিতা। সঙ্গে থাকত বন্ধুবান্ধব। তবে গভীর রাতে যেতেন, ভোরবেলা বেরিয়ে আসতেন। রাতভর চলত পার্টি। তবে পার্থ চট্টোপাধ্যায় চট্টোপাধ্যায়কে নাকি কোনওদিনই দেখা যায়নি সেখানে।

এদিকে অর্পিতার রথতলার যে ফ্ল্যাট খেকে নগদ প্রায় ২৮ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে, সেখানে মিলেছে রয়্যাল এস্টেট কোম্পানির দুটি নথি। যারা ইমারতি দ্রব্যের কাজ করত, এমনটাই বলছে নথি। ২০১৭ সালে তৈরি হয়েছিল সেই রিয়েল এস্টেট। শেষ ব্যালেন্স শিট তৈরি হয়েছিল বেশ কয়েকবছর আগে। ওই রিয়েল এস্টেট সংস্থার ঠিকানার জায়গায় রয়েছে রথতলার ফ্ল্যাটের ঠিকানা। এদিকে জানা গিয়েছে, অর্পিতার ডায়মন্ড সিটির ফ্ল্যাটে মার্সিডিজ-সহ মোট ৪ টি গাড়ি ছিল, কিন্তু আচমকা তা উধাও হয়ে গিয়েছে। তবে কি ওই গাড়িতে করে পাচার করে দেওয়া হয়েছে টাকা? হদিশ নেই চালকদেরও। এই ঘটনায় ধন্দে ইডি। তবে রহস্যের শিকড়ে পৌঁছতে মরিয়া ইডি আধিকারিকরা। ফলে টানা জেরায় তথ্য পাওয়ার চেষ্টায় তাঁরা।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার গ্রেপ্তার করা হয় পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে। গ্রেপ্তারির আগেই অর্পিতার টালিগঞ্জের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছিল নগদ প্রায় ২২ কোটি টাকা। তারপরই প্রথমে তাঁকে আটক ও পরে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমে তিনি তদন্তে সহযোগিতা না করলেও চাপের মুখে অবশেষে মুখ খোলেন অর্পিতা। তাঁর থেকে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরেই বুধবার বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটে হানা দেয় ইডি আধিকারিকরা। উদ্ধার হয় প্রায় ২৮ কোটি টাকা ও সোনা-রুপো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.