টানা ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে ইলিশ ধরে ঘাটে ফিরেছে ‘মা-বাবার দোয়া-৩’ নামের একটি মাছ ধরার নৌকা। এই নৌকায় করে ঘাটে এসেছে ৯৯ মণ ইলিশ। পরে নিলামে এসব ইলিশ বিক্রি করা হয়েছে ২৩ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকায়। গতকাল মঙ্গলবার ২৬ জুলাই সন্ধ্যার পরে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটের মেঘনা ফিশিংয়ে এ ইলিশ বিক্রি করা হয়।

এদিকে মেঘনা ফিশিংয়ের ম্যানেজার মো. হাবিব ভূইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এতগুলো মাছ এক বোটে আগে কখনো পাওয়া যায়নি। বোটটি আমাদের ঘাটে আসার সঙ্গে সঙ্গে মাছ দেখতে সবাই ভিড় জমিয়েছে। নিলামে দাম তুলতে তুলতে শেষ পর্যন্ত ৯৯ মণ ইলিশের দাম হয়েছে ২৩ লাখ টাকা ২৬ হাজার ৫০০ টাকা। নৌকার সারেং মো. রশিদ বলেন, আমাদের নৌকার মালিকের বাড়ি চট্টগ্রা। এই এলাকার সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সাহেব বলেছেন আমাদের হাতিয়া ঘাটে আসার জন্য। আমরা এক মণ ইলিশ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা করে দাম পেয়েছি।

স্থানীয় জেলে আবুল কাশেম বলেন, ১০-১৫ জন জেলে গত সোমবার গভীর রাত থেকে ইলিশ ধরতে মা-বাবার দোয়া-৩’ নামের একটি মাছ ধরার নৌকা নিয়ে সাগরে জাল ফেলেন। জাল টেনে নৌকায় তুলতেই দেখতে পান, অনেকগুলো বড় ইলিশ এবং একই সঙ্গে ছোট ইলিশও ধরা পড়েছে। এক নৌকায় আগে কখনও এতো মাছ পাওয়া যায়নি। ঘাটে আসার সঙ্গে সঙ্গে মাছ দেখতে অনেক মানুষ ভিড় জমিয়েছে। পরে মেঘনা ফিশিং সব মাছগুলো নিলামে কিনে নেন। এদিকে হাতিয়া মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আখতার হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞার পর এতো মাছ এক সঙ্গে পেয়ে জেলেরা যেমন খুশি, আমরা ব্যবসায়ীরাও খুশি। আশা করি, এ মৌসুমে ভালো ইলিশ পাওয়া যাবে।

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, প্রজনন মৌসুমসহ সরকারি বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলায় স্থানীয় জেলেরা উপকৃত হচ্ছেন। এ কারণে নদী ও সাগরে বিভিন্ন প্রজাাতির মাছের বংশ বিস্তার বেড়েছে। বর্তমানে সাগরের মোহনা থেকে ইলিশ শিকার করে জেলেরা ফিরতে শুরু করেছেন। প্রতিদিন বোট-ট্রলার ভর্তি ইলিশ নিয়ে জেলেরা ফিরছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সাগরে প্রচুর ইলিশ রয়েছে। সামনে আরও বেশি মাছ ধরা পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.