গাজীপুর মহানগরের জোলারপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম। প্রায় ১০ বছর আগে জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুবাদে পরিচয় হয় মুসলিম নারী নুর কারমিলা বিনতে হামিদের সঙ্গে। পরিচয় থেকে ভালো লাগা, সেই সম্পর্ক গিয়ে গড়ায় প্রেমে। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের জেরে অবশেষে মালয়েশিয়া থেকে গাজীপুরে এসে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন নুর কারমিলা। গত শুক্রবার (২২ জুলাই) গাজীপুর মহানগরের জোলারপাড়া এলাকায় জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে ধুমধাম করে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। এখন আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর বাড়িতে ঘুরে সময় কাটাচ্ছেন এই নবদম্পতি।

বর জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর মহানগরের জোলারপাড় গ্রামের মৃত আব্দুল কাশেমের ছেলে। আর কনে নুর কারমিলা বিনতে হামিদ মালয়েশিয়ার কামপুং কেলেওয়াক এলাকার বাসিন্দা। জাহাঙ্গীর আলম জানান, জীবিকার তাগিদে ১০ বছর আগে মালয়েশিয়ায় যান তিনি। সেখানে লিঙ্কন ইউনিভার্সিটিতে মেইনটেন্যান্স বিভাগে কাজ পান। একই ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট কাউন্সিলর নুর কারমিলা বিনতে হামিদের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। নুর কারমিলা মালয়েশিয়ান মুসলিম পরিবারের মেয়ে। পরে তাদের মধ্য প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

করোনার আগে জাহাঙ্গীর দেশে আসেন। করোনা কারণে পরে আর মালয়েশিয়াতে যাওয়া হয়নি তার। তবে দুজনের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। গত ১৮ জুলাই জাহাঙ্গীর আলমের গাজীপুরের জোলারপাড় গ্রামের বাড়িতে ছুটে আসেন নুর কারমিলা। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দুই পরিবারের সম্মতিতে গায়ে হলুদসহ নানা আয়োজনে শুক্রবার (২২ জুলাই) স্থানীয় মসজিদে আমাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। কনেকে দেখতে ভিড় করেন আশপাশের এলাকার লোকজন। এখন দুজনের একসঙ্গে ভালো সময় কাটছে। কিছুদিন পর আবারও দুজন কাজের জন্য মালয়েশিয়া চলে যাব। আপাতত স্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গা ঘুরে বেড়াচ্ছি।

কনে নুর কারমিলা জানান, তার পরিবারের লোকজনের মতামত নিয়েই তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। জাহাঙ্গীর খুব ভালো ছেলে। একসঙ্গে চাকরি করার সুবাদে পরিচয়, বন্ধুত্ব এরপর প্রেম। তাই শুধু সবচেয়ে ভালো বন্ধু না ভেবে, জীবনসঙ্গী করতে এখানে ছুটে এসেছেন। পরে জাহাঙ্গীরের পরিবার ও স্বজনদের মতামতে গ্রামবাসীকে নিয়ে উৎসব করে গত শুক্রবার সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.