চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় ছাত্রীকে হেনস্তার সময় তিনটি মোবাইলে ধারণ করা হয় ভিডিও। এরমধ্যে একটি আজিমের মোবাইল। গ্রেফতারের পর বিষয়টি স্বীকার করেন আজিম। শনিবার সকালে নগরের চান্দগাঁও ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ। এর আগে শুক্রবার হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আজিমসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

আজিম হাটহাজারী উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের মো. আমির হোসেনের ছেলে। গ্রেফতার অন্যরা হলেন- একই ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের জাবেদ হোসেনের ছেলে মো. নুর হোসেন ওরফে শাওন, চার নম্বর ওয়ার্ডের বেলায়েত হোসেনের ছেলে মো. নুরুল আবছার ওরফে বাবু ও ঝালকাঠির আশিয়ার এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. মাসুদ রানা ওরফে মাসুদ। আজিম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ, নুর হোসেন হাটহাজারী কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষ, নুরুল আবছার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ ও মাসুদ রানা হাটহাজারী কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ বলেন, ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে ও বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে জানতে পারি- আজিমের নেতৃত্বে এ ঘটনার সঙ্গে ছয়জন সস্পৃক্ত। অভিযুক্ত সাইফুলকে ধরতে পারলে আরো বিস্তারিত জানা যাবে। ঘটনাটি তাৎক্ষণিক ঘটেছে। পূর্ব কোনো পরিকল্পনা ছিল না তাদের। জানা যায়, রোববার রাতে খাওয়া শেষে বন্ধুকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকা হয়ে যাচ্ছিলেন ভুক্তভোগী। প্রীতিলতা হল সংলগ্ন রাস্তায় পৌঁছালে অজ্ঞাত পাঁচজন তাদের পথরোধ করে জেরা এবং মারধর করতে থাকেন। ওই সময় ভুক্তভোগী বাধা দিলে তারা তাকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন।

একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগী ও তার বন্ধুকে বেগম ফজিলাতুন নেছা হলের পেছনে ঝোপঝাড়ের দিকে নিয়ে যান এবং ভুক্তভোগীর শ্লীলতাহানি ও অশ্লীল ভিডিও ধারণ করেন। ওই সময় একজন তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে না জড়ালে উক্ত ভিডিও ভাইরাল করারও হুমকি দেন। একঘণ্টা আটকে রেখে ভুক্তভোগী ও তার বন্ধুর দুটি মোবাইল ফোন এবং ১৩ হাজার ৭০০ টাকা আত্মসাৎ করেন তারা। পরে বুধবার এ ঘটনায় হাটহাজারী মডেল থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী।

র‍্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। মামলার পর আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার হাটহাজারী ও রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূলহোতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন তারা। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে তাদের হাটহাজারী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.