গাজীপুরের কোনাবাড়ী থেকে কুয়াকাটায় ঘুরতে যাওয়ার পথে বরিশালের উজিরপুর এলাকায় বাস ও মাইক্রোবসের সংঘর্ষে নিহত ছয়জনের জানাজা একত্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে।শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১১ নম্বর ওয়ার্ডে খাজা মার্কেট একাকায় এ জানাজা হয়। তাদের জানাজায় গাজীপুরের সবস্তরের হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জানাজা শেষে যার যার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিহতরা হলেন, গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী জয়েরটেক খাজামার্কেট এলাকার উজিরুল ইসলামের ছেলে রুহুল আমিন (৪২), হাজী জব্বার এর ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪৩), মোহাম্মদ রহা মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম ঠান্ডু (৫৪), হাসেন মিয়ার ছেলে আব্দুর রহমান (৪৫), আব্দুর রহমানের ছেলে হারুন বাদশা (৪০), ও আহাকী নদীর পার এলাকার তমিজউদ্দিনের ছেলে হাসান সরকার (৩৬)।

ভ্রমণসঙ্গী হাশেম জানান, পদ্মাসেতু ও কুয়াকাটা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে রওনা হয়। দুটি মাইক্রোবাসে মোট ২৩ জন ছিলেন। দুর্ঘটনা কবলিত ওই গাড়িতে মোট ১০ জন ছিলেন। তারমধ্য ৬ জন মারা গেছে বাকি চারজন আহত হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহতদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিকে তাদের মৃত্যুতে শোকে কাতর পুরো এলাকার মানুষ।

এলাকায় আকাশ বাতাস যেন ভারী হয়ে আসছে।নিহত হারুনের মা কেঁদে কেঁদে অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন। ছেলে ফেরার অপেক্ষায় গর্ভধারিনী মা পথ চেয়ে আছেন।এদিকে আহাকী এলাকায় নিহত হাসানের তিন বছরের সন্তান এখনো বুঝতেই পারছে না তাদের বাবা আর নেই। তারা দুই ভাইবোন এখনো জানে তাদের বাবা মজা নিয়ে আসবে। কিন্তু অবুঝ শিশু দুইটি জানেই না তাদের বাবা আর কোনো দিন ফিরে আসবে না।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট.আজমত উল্লাহ খান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল, গাজীপুর

মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত হোসেন সরকার। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য,বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের নতুন শিকারপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.