মুসলমানদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদ জুমার দিন। পবিত্র আল-কোরআনে জুমা নামে একটি সুরা রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা জগৎ সৃষ্টির পূর্ণতা দান করেছেন এই দিনে। তাই মুসলিম উম্মাহ জুমার দিন বিশেষ ইবাদতের লক্ষে মসজিদে একত্রিত হয়ে থাকে।জুমার দিনের অনেক ফজিলত ও

গুরুত্বের কথা একাধিকবার হাদিসে এসেছে। রাসূলে কারিম (সা.) বলেছেন, ‘এটা শুক্রবার, যে দিনের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আমাদের পূর্ববর্তী জাতি থেকে পৃথক করেছেন। ইহুদিদের জন্য বিশেষ ইবাদতের দিন ছিল শনিবার, খ্রিস্টানদের জন্য ছিল রবিবার। যখন আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রেরণ করলেন, তখন শুক্রবারকে জুমার দিন হিসেবে পালন করতে নির্দেশ দিলেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৭৯৭)।

এখন প্রশ্ন হলো, নারীরা তো আর জুমার দিনে মসজিদে যান না। নারীরা কখন নামাজ পড়বেন? পুরুষের জুমা পড়া শেষ হলে নাকি জোহরের ওয়াক্ত হলে নামাজ আদায় করে নিতে পারবে? কোনো কোনো মুরব্বিকে বলতে শোনা যায়- পুরুষদের আগে নারীরা নামাজ আদায় করবে না, কথাটি কি ঠিক?

এ প্রশ্নের উত্তর হলো- নামাজের সময় হওয়ার পর বিনা প্রয়োজনে বিলম্ব করা নারী ও পুরুষ কারো জন্য উচিত নয়। বিশেষত যখন নামাজের মুস্তাহাব ওয়াক্ত হয়ে যায়। তাই নারী-পুরুষ উভয় শ্রেণি নামাজের মুস্তাহাব ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নামাজ আদায় করবে। আর পুরুষের নামাজের সঙ্গে নারীদের নামাজের এমন কোনো সম্পর্ক নেই যে পুরুষ যে সময়ে নামাজ পড়ে সে সময়েই তাদের নামাজ আদায় করতে হবে বা পুরুষ নামাজ আদায় করার পর তারা নামাজ আদায় করবে।

সুতরাং শুক্রবারও নারীরা জোহরের নামাজের মুস্তাহাব সময় হওয়ার পর নামাজ আদায় করতে পারবেন। চাই মসজিদে জুমার জামাত হোক বা না হোক। শুক্রবার জোহরসহ যে কোনো দিন যে কোনো ওয়াক্তের নামাজ নারীরাও মুস্তাহাব সময় দেখে আদায় করবে। পুরুষদের ঘরে ফেরার অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। (আল-বাহরুর রায়িক ও কানজুদ দায়িক)

Leave a Reply

Your email address will not be published.