সন্তান-সন্তুতি দানের ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার হাতে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে যত চাহিদা ও আকর্ষণ দান করেছেন, তার মধ্যে সন্তান-সন্তুতির আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি। সুতরাং প্রত্যেক মানুষের উচিত আল্লাহ তায়ালার নিকট নেক সন্তানের কামনা করা। আর যাদের সন্তান হয় না।

ভালো কিংবা মন্দ সব বাবা-মায়েরাই নেক সন্তান চায়। যারা বিয়ে করবেন, যারা বিয়ে করেছেন এবং যারা আরো সন্তান নেয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী তিনটি আমল খুবই জরুরি। আর এসব আমলেই মহান আল্লাহ তাদের দান করবেন নেক সন্তান। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক কী সেই আমল তা সম্পর্কে-

আল্লাহর কাছে দোয়া করা
আল্লাহ তায়ালা মানুষকে তার কাছে চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। চাইতে হবে শুধুমাত্র তার কাছেই। কীভাবে চাইতে হবে তা-ও তুলে ধরেছেন কোরআনে। আল্লাহর কাছে নেক সন্তান চাওয়ার জন্য চমৎকার কিছু আয়াত তুলে ধরেছেন। তাহলো-

আরবি: رَبَّنَا هَبۡ لَنَا مِنۡ اَزۡوَاجِنَا وَ ذُرِّیّٰتِنَا قُرَّۃَ اَعۡیُنٍ وَّ اجۡعَلۡنَا لِلۡمُتَّقِیۡنَ اِمَامًا

উচ্চারণ: ‘রাব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াঝিনা ওয়া জুররিয়্যাতিনা কুররাতা আইয়ুনাও ওয়াঝআলনা লিলমুত্তাক্বিনা ইমামা।’

অর্থ: ‘হে আমাদের রব্ব! আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন যারা আমাদের জন্য নয়ন প্রীতিকর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্য আদর্শ স্বরূপ করুন।’ (সুরা ফুরকান : আয়াত ৭৪)

আবার যাদের সন্তান হয় না, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত সুন্দর একটি দোয়া। বার্ধক্যে হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালামের সে আবেদনও মানুষের জন্য আল্লাহ তায়ালা এভাবে তুলে ধরেছেন-

আরবি: رَبِّ لَا تَذَرۡنِیۡ فَرۡدًا وَّ اَنۡتَ خَیۡرُ الۡوٰرِثِیۡنَ

উচ্চারণ: ‘রাব্বি লা তাজারনি ফারদাও ওয়া আংতা খায়রুল ওয়ারিছিনা।’
‘হে আমার রব! আমাকে একা রেখো না, তুমি তো শ্রেষ্ঠ মালিকানার অধিকারী (অতএব আমাকে উত্তম ওয়ারিশ/সন্তান দান করুন)।’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ৮৯)

হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালাম সন্তানের জন্য আরো একটি দোয়া করেন। সেই দোয়ায় আছে আল্লাহর প্রতি বিনয় ও নেক সন্তান পাওয়ার আশা। তাহলো-

আরবি: رَبِّ هَبۡ لِیۡ مِنۡ لَّدُنۡکَ ذُرِّیَّۃً طَیِّبَۃً ۚ اِنَّکَ سَمِیۡعُ الدُّعَآءِ

উচ্চারণ: ‘রাব্বি হাবলি মিল্লাদুংকা জুররিয়াতান ত্বাইয়েবাতান; ইন্নাকা সামিউদ দোয়া।’

অর্থ: ‘হে আমার প্রভু! আমাকে তোমার পক্ষ থেকে পবিত্র সন্তান দান করো, নিশ্চয়ই তুমি দোয়া শ্রবণকারী।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ৩৮)

সুন্নাহ সম্মত আমল করা
নেক সন্তান পাওয়ার জন্য আগে থেকেই শয়তান থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। তাই সব সময় আল্লাহর কাছে এভাবে আবেদন করা-

আরবি: بِسْمِ اللّهِ اللّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَ جَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا

উচ্চারণ: ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শায়ত্বানা ওয়া জান্নিবিশ শায়ত্বানা মা রাযাক্বতানা।’

অর্থ: ‘আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ, আমাদেরকে শয়তান থেকে দূরে রাখুন এবং আমাদের যা রিজিক (সন্তান) দেবেন তা থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন।

নবিজী ( সা.) বলেছেন, দাম্পত্য মিলনের আগে যদি কেউ এ কথা বলে তবে তাদের মিলনে সন্তান জন্ম নিলে তাকে শয়তান ক্ষতি করবে না। (বুখারি)

গুনাহ থেকে বিরত থাকানেক সন্তান পেতে হলে স্বামী-স্ত্রীকে নেককার হতে হবে। তাদের উভয়কে নেক আমল করতে হবে। গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকতে হবে। তবেই মহান আল্লাহ তাদের দান করবেন নেক সন্তান।মনে রাখতে হবে

নেক সন্তান দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য বিরাট এক নেয়ামত। নেক সন্তান হচ্ছে সাদক্বায়ে জারিয়াহ, কারণ নেক সন্তান বাবা-মায়ের ইন্তেকালের পরেও তাদের জন্য দোয়া করে থাকেন। নেক সন্তানের নেক আমলের সওয়াব মা-বাবা কবরে শুয়ে শুয়ে অবিরাম পেতে থাকেন।

সুতরাং নেক সন্তান পাওয়ার জন্য কোরআন ও হাদিসের আমলগুলো করার পাশাপাশি গুনাহ থেকে বিরত থাকা জরুরি। তবেই আল্লাহ মানুষকে দান করবেন নেক সন্তান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.