সারা বিশ্বজুড়ে এখন রয়েছে ডিজিটাল লেনদেন। এখন আর বাহিরে বের হলে আগের মতো হাতে টাকাপয়সা নিয়ে বের হতে হয় না। শুধুমাত্র সঙ্গে রাখতে হয় ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড।বাহিরে বের হলে যদি টাকাপয়সার প্রয়োজন হয়, তখন ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে যে কোনো

এটিএম থেকে টাকা তুলে নেয়া যায়। এখন রাস্তার মোড়ে মোড়ে পাওয়া যায় বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম বুথ। এই বুথে ঢুকে প্রথমে এটিএমে কার্ড পাঞ্চ করেন। পাঞ্চ করার পর পিন নাম্বার দিতে হয়। পিচ নাম্বার দিলেই টাকা তোলা যায়। সেই পিন নাম্বারটি থাকতে হবে চার সংখ্যার। তবে জানেন কি এটিএমে কেন চার সংখ্যার পিন থাকে?

এই প্রশ্নের উত্তর হলো, এটিএম হলো (অটোমেটেড টেলার মেশিন বা অটোমেটিক টেলার মেশিন) শর্ট ফর্ম। এই যন্ত্রের ধারণা প্রথম স্কটল্যান্ডের অধিবাসী জন শেফার্ড ব্যারনের ভাবনাতে আসে। চকলেট ভেন্ডিং মেশিন (চকলেট বিক্রি কারার স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র) দেখেই তিনি এটিএম তৈরি করার কথা ভাবেন।

১৯৬৭ সালে লন্ডনে বার্কলেস ব্যাংকের এনফিল্ড শাখায় প্রথম এটিএম স্থাপন করা হয়। মেশিনটি পিন (পার্সোনাল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) নাম্বারের ভিত্তিতে কাজ করতো। ব্যাংকিং লেনদেনকে আরো সহজ করতে এখন এটিএমের পাশাপাশি সিআরএম (ক্যাশ রিসাইকেল মেশিন) এসেছে। যার সাহায্যে টাকা উত্তোলন ছাড়াও জমা দেওয়া যাবে। দিন দিন এই মেশিনেরও ব্যবহার বাড়ছে।

প্রথমে এটিএমে কার্ড প্রবেশ করানোর পর পিন নাম্বার চাপতে হয়। তারপর আইডেন্টিটি চেক হওয়ার পর রিকুয়েস্ট ব্যাংকের এটিমের সুইচে যায়। তারপর সেখান থেকে ভেরিফাই হলে একাউন্টের টাকা উত্তোলন করা যায়। এই প্রক্রিয়া মাত্র কয়েক ন্যানো সেকেন্ডের মধ্যেই সম্পন্ন হয়। আর গ্রাহকের টাকা মেশিন থেকে বেরিয়ে আসে।

আসলে এটিএম থেকে টাকা তোলার ক্ষেত্রে কোনো রকেট সায়েন্স নেই। যে কোনো ব্যক্তি এটিএম থেকে খুব সহজেই টাকা তুলতে পারেন। একটি পিন অর্থাৎ পাসওয়ার্ড দিয়ে এই টাকা সুরক্ষিত রাখা হয়। এটিএম কার্ড ব্যবহারকারী একমাত্র সেই পাসওয়ার্ড বা পিন জানেন। এই পিন হয় চার ডিজিটের।

আগে নাকি এটিএম এর পিন ছিল ছয় ডিজিটের। তবে কার্যক্ষেত্রে দেখা যায়, বেশিরভাগ লোকই সেই পাসওয়ার্ড মনে রাখতে পারছেন না। তাই ছয় ডিজিটের পিন নাম্বারটি ছোট করে চার ডিজিটের করা হয়েছে, যাতে সবাই মনে রাখতে পারে। এই পিন হ্যাক করা অনেকটাই অসম্ভব। কারণ চার অংক দিয়ে অসংখ্য সংখ্য়া তৈরি করা যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ছয় ডিজিটের পিন হলে আরো বেশি সুরক্ষিত হত। বর্তমানে একাধিক দেশে ছয় ডিজিটের পিন অপশন চালু আছে।

এটিএম থেকে টাকা তোলার সময় যেভাবে সতর্ক থাকবেন- প্রত্যেক লেনদেনের আপডেট পাওয়ার জন্য অ্যাকাউন্টের সঙ্গে নিজের ই-মেইল ও মোবাইল নাম্বার যুক্ত করুন। অচেনা এটিএম থেকে টাকা না তুললেই ভালো। এমন এটিএম থেকেই টাকা তুলুন, যেখানে কোনো নিরাপত্তারক্ষী আছেন। এটিএমে অত্যধিক ভিড় থাকলে এড়িয়ে যান। টাকা তোলার সময়ে কেউ আপনার পিন-প্যাডের দিকে তাকিয়ে আছে কি না খেয়াল

রাখুন। নিয়মিত ব্যাংক স্টেটমেন্টে নজর রাখুন। কোনো ভাবে এটিএম কার্ড চুরি গেলে বা মেশিনে আটকে গেলে দ্রুত হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন। মাঝেমধ্যেই কার্ডের পিন নম্বর বদলে ফেলুন। অপরিচিত ব্যক্তিকে কার্ডের নম্বর কিংবা তথ্য জানাবেন না। যখন কার্ড ব্যবহার করবেন তখন কোনো অপরিচিত ব্যক্তির সাহায্যও নেবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.