দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে আজ মঙ্গলবার ১৯ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সরকারি অফিসের সময় কমানোর। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়া শুরু করলেও বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সামনের ছোট-বড় অবৈধ দোকানগুলোয়। বিদ্যুৎ যাচ্ছে না এসব দোকানে। কারণ, চোরা লাইন।

এদিকে ঢামেকের জরুরি বিভাগের বাইরের এলাকায় হাসপাতাল ও সড়কের ফুটপাতজুড়ে অসংখ্য দোকান রয়েছে। রাস্তার কিছু অংশ দখল করেও বিভিন্ন পণ্যের দোকান বসে প্রতিনিয়ত। এসব দোকান চলে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা। রাতে দোকান করতে মালিক-কর্মচারীরা যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তার প্রায় সিংহভাগই চোরা লাইনের।

দোকানগুলো ঘুরে প্রয়োজনের বেশি লাইট-ফ্যানের ব্যবহার দেখা গেছে। রাস্তার ওপর যেসব ভ্রাম্যমাণ দোকান (ভ্যান-টুকরি) বসে, সেখানেও লাইট জ্বলছে। সবগুলো দোকানেই এনার্জি বাল্ব জ্বলে। চলে টেবিল ফ্যানও। জানা গেছে, অবৈধ দোকানগুলোর অবৈধ বৈদ্যুতিক লাইনের বিনিময়ে আলাদা করে লাইট-ফ্যানের জন্য ‘দাম’ দিতে হয়। দাম তোলেন একরাম নামে এক ‘লাইনম্যান’। যদিও এ লাইনম্যান শব্দটির কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রভাব বিস্তার করে অনেকেই অবৈধ এ কাজ পরিচালনা করেন।

এদিকে ফুটপাতের দোকানিরা জানান, বছরের পর বছর তারা চোরা লাইনে লাইট-ফ্যান ব্যবহার করে আসছেন। কেউ তাদের কিছু বলে না। বরং বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য লাইনম্যানরা এসে টাকা নিয়ে যান। সকাল থেকে লাইটের ব্যবহার কম হলেও সন্ধ্যা থেকে এলাকাটি আলোকিত হয়ে থাকে চোরা বিদ্যুৎ লাইনে।

লাইনম্যান একরাম নামে এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে তারা জানান, তিনি লাইনম্যান। প্রতিদিন লাইট ও ফ্যানের জন্য আলাদা করে তিনি টাকা তোলেন। একটি ফ্যান ও লাইটের জন্য তাকে ৬০ টাকা করে দিতে হয়। তার নিজেরও একটি দোকান আছে, যেখানে চোরা লাইনে বিদ্যুৎ চলে। জানা গেছে, একরামকে এ কাজে শেল্টার দেন এক ব্যক্তি, যিনি গুলিস্তান থাকেন। অবৈধ দোকান মালিক ও তার ভাগ্নে সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, একরামকে তিনিও মোবাইলে কল করে পান না। কিন্তু টাকা নেওয়ার সময় তিনি ঠিকই হাজির হন।

এ বিষয় নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক বলেন, আমাদের হাসপাতালে থেকে কেউ অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিতেই পারে না। হাসপাতালের বাইরে বাউন্ডারি লাগোয়া অনেক দোকান আছে। ফুটপাতেও কিছু দোকান আছে। এসব দোকানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেখা যায়। নিশ্চয়ই সেখানে কোনো বৈধ লাইন নেই। অন্য কোনো পন্থায় সেখানে বৈদ্যুতিক লাইন নেওয়া হয়েছে।

ঢামেক পরিচালক আরও জানান, সিটি কর্পোরেশন দুদিন পরপরই এইসব দোকান ভেঙে দিয়ে যায়। আমরাও নিজের উদ্যোগেও অনেকবার এ কাজ করেছি। সরকার এখন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ব্যাপার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাতে সম্মান রেখে হাসপাতালে প্রাচীর ঘেঁষা দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হবে। একই সঙ্গে কেউ যাতে আর দোকান বসাতে না পারে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাস্তা যেহেতু ঢাকা মেডিক্যালের আওতাধীন

নয়, এ ব্যাপারে অন্যান্য সরকারি ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে আমাদের কথা বলতে হবে।
এ ব্যাপারে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুত হাওলাদার বলেন, হাসপাতালের পাশে ফুটপাতে বা রাস্তায় বসা দোকানে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বৈধ নাকি অবৈধ, তা দেখবে বিদ্যুৎ বিভাগ। তারা যদি লাইন বিচ্ছিন্ন করার সময় পুলিশের সহযোগিতা চায়, তাদের সেটি করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.