গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটোর চাষাবাদ করে বাজিমাত করেছেন কৃষক মো. মোস্তাকিম সরকার। তিনি বন বেগুন গাছের সঙ্গে বারি টমেটো-৮ জাতের চারার গ্রাফটিং পদ্ধতিতে চাষ করে তিনি এক অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন।

তার উৎপাদিত এসব টমেটো এ উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। গত দুই মাসে তিনি ২২ লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আরো ৩ লাখ টাকার উপর টমেটো বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। এতে তার যাবতীয় খরচ বাদে টমেটো চাষে তার আয় হবে ১০ লাখ টাকার উপর। সুষ্ঠু পরিকল্পনা, ইচ্ছাশক্তি আর শ্রম দিলে যে কোনো চাষ লাভজনক প্রতিষ্ঠানে গড়ে তোলা সম্ভব সেটাই প্রমাণ করেছেন তিনি।

মোস্তাকিম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের ধাতুরপহেলা গ্রামের বাসিন্দা। ঐ ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামে গত কয়েক বছর ধরে মায়ের দোয়া বহুমুখী কৃষি খামার বিশাল এলাকা জুড়ে গড়ে তুলেন। ঐ খামারে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি এই বছর প্রথম গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে এলাকায় চকম সৃষ্টি করেন। তাছাড়া তিনি ঐ পদ্ধতিতে নিজে চারা আবাদসহ বাণিজ্যিকভাবে বিক্রিও করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে তিনি ২৫ লাখ টাকার উপর টমেটো বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

সরেজমিনে আদমপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে প্রতিটি গাছে ঝুলে আছে টমেটো। যে দিকে দৃষ্টি পড়ে জমিতে দেখা যায় কাঁচা-পাকা টমেটোয় ছেয়ে আছে পুরো মাঠ। রাস্তার পাশে এই প্রকল্পটি হওয়ায় আগত ছোট বড় সবার নজর কাড়ছে। সকাল বিকেল অনেক লোকজনই আসছে তার এই প্রকল্প দেখতে ও পরামর্শ নিতে।

জায়গা বর্গা (ইজারা) নিয়ে মাটির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে এসব সবজি ও ফল আবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। একই সঙ্গে কৃষিতে দেশকে এগিয়ে নিতে স্থানীয় বেকার যুবকদেরকে স্বাবলম্বী হতে পথ দেখাচ্ছেন তিনি। এরই মধ্যে তিনি একজন সফল চাষি হিসেবে বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন। সবজি ও ফল চাষে বছরে তার বছরে আয় হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা।

কৃষক মো. মোস্তাকিম সরকার জানায়, এ মৌসুমে বার্ষিক ইজারাকৃত ১১ বিঘা জমিতে গ্রাফটিং পদ্ধতির মাধ্যমে টমেটোর আবাদ করা হয়। গ্রাফটিং পদ্ধতির প্রথমে তিনি রাস্তার পাশে, ঝোঁপ-জঙ্গলে হেলাফেলায় বেড়ে ওঠা বনবেগুনের বীজ সংগ্রহ করে ঐ বীজ থেকে চারা তৈরি করে গ্রাফটিং করা হয়। টমেটোর বাগানে ফলন ও প্রচুর হয়েছে। যেখানে সাধারণ একটি টমেটো গাছে ৩-৪ পাঁচ-কেজি টমেটো পাওয়া যায়, সেখানে গ্রাফটিং করা প্রতি গাছে মেলছে ১০-১২ কেজির উপর।

তিনি আরো বলেন, প্রতি ১ বিঘা জমিতে সেচ, বীজ, চারা রোপন, জমি ইজারা, পরিচর্যাসহ অন্যান্য খরচ হয় প্রায় ১লাখ ১৫ হাজার টাকার উপর । এ পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি টমেটো চাষ করে ভালো ফলন পাওয়ায় বেজায় খুশি । গত দুই মাসে তিনি ২২ লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন। কৃষক মো. মোস্তাকিম সরকার এক সময় তিনি প্রবাসে ছিলেন। দেশে এসে আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন। কৃষি অফিস ও কৃষিবিদদের পরামর্শ এবং নিয়মিত ইউটিউব চ্যানেলে কৃষি সংক্রান্ত নানা বিষয় দেখে এ কাজে তার অনেক সহায়তা হয়। তাদের পরামর্শ ও অভিজ্ঞার আলোকে গত ২ বছর ধরে তিনি ২০ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে তরমুজ, ক্যাপসিকাম, সিমলা, শসা, টমেটো, ঢেঁড়স, লাউ, বেগুনসহ নানা প্রকার সবজি চাষ করছেন।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমোটো চাষের অনেক সুবিধা রয়েছে। সেসব সুবিধাগুলো হলো আগাম টমেটোর চাষ করা যায়, গাছ বেশি দিন বেঁচে থাকে, গাছে রোগ বালাই কম থাকে, বীজ থেকে উৎপাদিত গাছের তুলনায় ঢলে পড়া রোগ অনেক কম হয়, তিতবেগুনের সঙ্গে কলম করলে গাছে ৬-৭ মাস পযর্ন্ত ফলন হয়। নানা প্রতিকূলতা অপেক্ষা করে কৃষক মোস্তাকিম সরকার কৃষিতে ভালো অবস্থান তৈরি করে বেশ সাফল্য অর্জন করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.