প্রত্যেক প্রাণীই মরণশীল। বেলা শেষে সূর্য যেমন সব পাঠ চকিয়ে বিদায়ী হয়। তাকে বিদায় নিতে হয় । দিবাকরের অস্ত পথ যেমন কেউ রুখতে পারে না। ঠিক তদ্রুপ মানুষের মৃত্যুর সময় যখন আসন্ন হবে, মৃত্যুর ঘণ্টা ধ্বনি যবে বেজে উঠবে তখন কেউ মৃত্যুকে প্রতিহত করতে পারবে না।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সোমবার সন্ধ্যায় দুই উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিহত হওয়ার ঘটনায় পালিয়ে যাওয়া সেই আসামিকে ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও এখনও ধরতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের একাধিকসূত্র জানিয়েছে, ওই আসামিকে দিয়ে গাড়ি চালানো হচ্ছিল। এ সুযোগে ওই আসামি গাড়ি খাদে ফেলে পালিয়ে যায়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। তবে পলাতক আসামিকে এখনও ধরা যায়নি।

তিনি আরও জানান, আসামির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা পানিতে পড়ে যাওয়ায় কিছু গলে গেছে, বাকিগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আহত হয়েছেন। তাকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহতরা হলেনঃ- ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার মুনসুরাবাদ গ্রামের কাজী নুরুল ইসলামের ছেলে কাজী সালেহ আহম্মেদ ও গোপালগঞ্জের চরভাটপাড়া গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে এসএম শরীফুল ইসলাম। তারা সোনারগাঁ থানায় কর্মরত ছিলেন।

পুলিশের একাধিক সূত্র আরও জানায়, সোনারগাঁয়ের মেঘনা টোলপ্লাজায় তল্লাশি চৌকিতে একটি গাড়িকে থামার জন্য সংকেত দেয়ার পর সেটি এক কনস্টেবলকে আহত করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে মাদক ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনকে মাদক ও গাড়িসহ ধরতে সক্ষম হয় পুলিশ। এরপর আসামী আলমগীরকে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আনা হয়। এসময় সে গাড়ি চালিয়েছে।

এসপি অফিসে সংবাদ সম্মেলনের পর তাকে নিয়ে সোনারগাঁ থানায় যাওয়ার জন্য রওনা দেন দুই এসআই ও এক এএসআই। তবে, তাদের তিনজনের কেউই গাড়ি চালাতে পারতেন না। ফলে তারা আসামিকে গাড়ি চালানোর দায়িত্ব দেন। এ সুযোগে সোনারগাঁয়ের দত্তপাড়া এলাকায় গাড়ি থেকে কৌশলে লাফ দিয়ে তা খাদে ফেলে দিয়ে চালক পালিয়ে যায়। ঘটনার পর এখনো আসামি পলাতক আছে বলে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোস্তাফিজুর রহমান। এতে দুই এসআই নিহত হন ও গুরুতর আহত হন এএসআই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.