সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জামিলা চৌধুরী নামের এক মহিলা যাত্রীকে হয়রানির ঘটনায় দুই কর্মকতাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্টেশন ব্যবস্থাপক চৌধুরী ওমর হায়াত। দুই কর্মকতাকে বরখাস্ত করা হয়েছে জানা গেলেও তাদের নাম প্রকাশ প্রকাশ করেননি ওই কর্মকর্তা।

তবে নাম না বললেও একজন কাউন্টার সুপার ভাইজার ও অপরজন জুনিয়র গ্রাউন্ড সার্ভিস অফিসার বলে জানা যায়। তবে শাস্তির আওতায় আনা দুই কর্মকতার নাম প্রকাশ করেননি তিনি।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, এক মহিলা যাত্রীকে হয়রানির অভিযোগে দুইজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদেরকে ঢাকায় গিয়ে রিপোর্ট করার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে তারা ঢাকায় যেতে পারেননি।

চৌধুরী ওমর হায়াত আরো বলেন, গত ২৮ জুলাই ওই নারীর সঙ্গে সৃষ্ট ঘটনার জন্য শুক্রবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় তার বাসায় গিয়ে শান্তনা দিয়ে বলেছি, আগামী ৪ আগস্ট যে ফ্লাইট আছে, সেই ফ্লাইটে যেতে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

এছাড়া ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলইন্স কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। রোববার (১ আগস্ট) তদন্ত করতে আসবেন বিমানের জিএম পদবির এক কর্মকর্তা।

এর আগে, গত ২৮ জুলাই সিলেট থেকে লন্ডন সরাসরি ফ্লাটের বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০১ এর যাত্রী ছিলেন ভুক্তভোগী প্রবাসী জামিলা চৌধুরী। কিন্তু তিনি ওইদিন যুক্তরাজ্য যেতে পারেননি ওসমানী বিমানবন্দরের কতিপয় কর্মকর্তার অসৌজন্যমূলক ও অন্যায় আচরণের জন্য।

তবে এ ঘটনার ভিডিও যখন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে তখন টনক নড়ে ওসমানী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের। শুক্রবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় জামিলা চৌধুরীর বাসায় যান একটি প্রতিনিধি দল।

বাসায় গিয়ে তাকে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সান্তনা দেন এবং আগামী ৪ আগস্ট যুক্তরাজ্য যাওয়ার জন্য টিকেটের ব্যবস্থা করে দেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন। সেই সঙ্গে তদন্তসাপেক্ষে দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও আশ্বাস দেয় প্রতিনিধি দল।

জানা যায়, বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে লন্ডনে সন্তানদের রেখে দেশে এসেছিলেন জামিলা চৌধুরী। গত বুধবার বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০১ এ তার যুক্তরাজ্য ফেরার কথা।

সেখানে কোয়ারেন্টিনের জন্য হোটেলও বুকিং করা ছিল। ২৮ জুলাই (বুধবার) জামিলা চৌধুরী নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশ বিমানের কাউন্টারে পৌঁছালে দায়িত্বরত কর্মকর্তা তার কাছে লোকেটর ফর্ম চান। তখন নিজ মোবাইলে লোকেটর ফর্মটি দেখালেও প্রিন্ট কপি চান এক কর্মকর্তা।

এখান থেকেই মূলত ঘটনার শুরু। জামিলা চৌধুরীর ভাষ্যমতে- বারকোডযুক্ত লোকেটর ফর্মের প্রিন্ট কপি বাধ্যতামূলক হতে পারে না যেখানে সবকিছুই বর্তমানে ডিজিটালি চলছে।

তবে বিমান কর্মকর্তা সেটি মানেননি। খানিকক্ষণ বাক-বিতন্ডার পর জামিলা চৌধুরী বিমানবন্দরের নির্ধারিত কাউন্টারে লোকেটর ফর্ম প্রিন্ট করার জন্য যান। কিন্তু সেখানে দীর্ঘ লাইন থাকায় তা প্রিন্ট করাতে পারেন নি। এখানে দুই দফায় বেশ খানিকটা সময় চলে যায় বলে জানান জামিলা চৌধুরী।

জামিলা চৌধুরী বলেন, ‘এরপর আমার লাগেজে অতিরিক্ত মালামালের কারণে আমার কাছে অনৈতিকভাবে টাকা দাবি করেন সেই কর্মকর্তা। আমি তা দিতে অপারগতা জানাই এবং বলি অতিরিক্ত ওজনের লাগেজ ফিরিয়ে দিয়ে শুধুমাত্র একটি লাগেজ নিয়ে আমাকে বোর্ডিং পাস দেবার জন্য।

কিন্তু সেই কর্মকর্তা উত্তেজিত হয়ে আমার উপর পাসপোর্ট ছুঁড়ে মারেন এবং অকথ্য ভাষা ব্যবহার করেন। আমাকে বোর্ডিং পাস না দিয়েই লাইন থেকে বের করে দেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি উপস্থিত অন্যন্য কর্মকর্তাকেও অনেক অনুরোধ করি, কিন্তু কেউ আমাকে সাহায্য করেনি।’ এসময় জামিলা চৌধুরী বিমানবন্দরে নিজের অভিযোগ জানাতে চাইলেও তার অভিযোগ কেউ গ্রহণ করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *