বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে আবার নতুন করে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। এই দ্বন্দ্বে কার্যত অচল হয়ে গেছে বিএনপি সংস্থার কার্যক্রম। এমনকি করোনার সময় যে বিভিন্ন কমিটিগুলো পুনর্গঠন করার কথা ছিলো সেই কার্যক্রমও থেমে গেছে। দলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে লন্ডনে পলাতক বিএনপি`র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। আর এই দ্বন্দ্বের কারণেই বিএনপির কার্যক্রম বন্ধ হবার উপক্রম।

জানা গেছে যে কয়েকটি কমিটি নিয়ে এই দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি থেকে শুরু করে অন্তত দশটি জেলার বিএনপি`র কমিটি চূড়ান্ত হয়ে এসেছে লন্ডন থেকে। কিন্তু এই কমিটির ব্যাপারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আপত্তি তুলেছেন। এমনকি ঐ সমস্ত কমিটি নিয়ে স্ব স্ব জেলায়ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য হচ্ছে যে, যারা এখন দলের জন্য কাজ করছেন তাদেরকে বাদ দিয়ে উড়ে এসে জুড়ে বসা লোক দিয়ে কমিটি গঠন করলে সেই কমিটি কার্যকর হবে না। এবং এ কারণেই এই কমিটিগুলোর ব্যাপারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অসম্মতি জানিয়েছেন। কিন্তু তারেক জিয়া এই কমিটিগুলোর ব্যাপারে অনড় অবস্থানে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এই কমিটি গঠন ছাড়াও জামায়াতের সাথে সম্পর্ক নিয়েও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে তারেক জিয়ার দ্বন্দ্বের খবর পাওয়া গেছে। গত কয়েকদিন আগে ২০ দলীয় জোটের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেটি ব্যাপারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবহিত ছিলেন না। নজরুল ইসলাম খান এই ২০ দলীয় জোটের বৈঠক আয়োজন করে একটি যুক্ত বিবৃতি প্রদান করেন। অথচ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অবস্থান ছিল যে, এখন আপাতত বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে কোন প্রকাশ্য অবস্থানে যাবে না। জামায়াত এবং বিএনপির ঐক্যবদ্ধ অবস্থানটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্য না হওয়ার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারেক জিয়া মনে করেন যে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা উচিত এবং ২০ দলীয় জোটকে অকার্যকর করলে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ নিয়ে বিএনপির এই দুই শীর্ষ নেতার মতবিরোধ এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। ওই বৈঠকের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রকাশ্যেই এই বৈঠকের ব্যাপারে তার আপত্তির কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু মির্জা ফখরুল ইসলামের আপত্তিকে তোয়াক্কা না করে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির একটি মহল যোগাযোগ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যে, এই যোগাযোগটি হচ্ছে তারেক জিয়ার নির্দেশে। তারেক জিয়া মনে করছেন যে, জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করলে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ভোটের মাঠে তার প্রভাব পড়বে। ফখরুল-তারেকের বিরোধের তৃতীয় সূত্র হলো হেফাজতের সঙ্গে সম্পর্ক। একাধিক সূত্র বলছে যে লন্ডন থেকে তারেক জিয়া বিভিন্ন তৃণমূলের নেতাকে হেফাজতের সঙ্গে মিলেমিশে সরকারবিরোধী আন্দোলন করার পরামর্শ দিচ্ছেন। আর এই ব্যাপারটি জানাজানি হয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীরা সরকারবিরোধী আন্দোলনে হেফাজতের সাথে মিলে কাজ করছেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন যে, হেফাজতের সাথে আন্দোলন হবে বিএনপির জন্য আত্মঘাতী। এটা বিএনপিকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কারণ এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিএনপি`র ভাবমূর্তি হবে ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তির সহযোগী সংগঠন হিসেবে। এটি বিএনপি`র জন্য ইতিবাচক হবে না বরং নেতিবাচক হবে। কিন্তু তারেক জিয়া মনে করেন যে, এখন সবগুলো রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একটি বৃহত্তর মোর্চা হওয়া উচিত এবং সরকারবিরোধী আন্দোলন এখনই শুরু করা উচিত। আর এইসব দ্বন্দ্বের কারণে এখন কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে আছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যার ফলে দল চালানো নিয়ে এখন তৈরি হয়েছে এক অচল অবস্থা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *