ধরুন, পা‌রিবা‌রিক আড্ডা হচ্ছে। আপনি আড্ডার ফাঁকে ফেসবুকে বন্ধুদের পোস্টগুলো পড়ছেন। হঠাৎ একটি ভিডিওতে চোখ আ’ট’কে গেল।

কৌতূহলী হয়ে প্লে বাটন চাপতেই নোংরা দৃশ্যের সঙ্গে অশ্লীল শব্দ ভেসে এলো। কী’’ করবেন সেই মুহূর্তে? পাঠক, এই প্রশ্নটি আপনার উদ্দেশ্যে চিত্রনায়িকা অ’পু বিশ্বা’সের। সম্প্রতি এমনই এক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন তিনি।

দিন কয়েক আগের ঘটনা। অ’পু বলেন, ‘বাসায় বসে ফেসবুকে বন্ধুদের পোস্টগুলো দেখছিলাম। হঠাৎ একটি ভিডিও ক্লিপ এলো। নাট’কের দৃশ্য ভেবে ক্লিক করতেই; ওমা! কি সব আ’পত্তিকর দৃশ্য শুরু হলো। এর সঙ্গে আবার অশ্লীল শব্দ!’

অ’পুর সঙ্গে এ সময় পরিবারের অনেকেই ছিলেন। বিশেষ করে মা’র সামনে অ’পু এই ঘটনায় ভীষণ অস্বস্তিতে পড়েন। অ’পুর ভাষায় ‘আমি লজ্জায় মুখ লুকাতে পারছিলাম না!’

অ’বাক ব্যাপার হলো, ভিডিও ক্লিপটি ছিলো আমাদের দেশেরই একটি ওয়েব সিরিজের। অ’পু ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘এখনই এসব বন্ধ করা উচিত। আমাদের চলচ্চিত্রেও একটা সময় অশ্লীলতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। পরিণতি সবারই জানা। ফলটা ভালো হয়নি। সুতরাং ওয়েব সিরিজের নামে এই অশ্লীলতাও ভালো ফল বয়ে আনবে না। ভালো দর্শক মুখ ফিরিয়ে নেবেই।’

কিন্তু টেলিভিশনে নাট’ক এবং অনলাইনে ওয়েব সিরিজে কিছু পার্থক্য থাকবেই। বিশেষ করে এই উন্মুক্ত আকাশ সংস্কৃতির কালে ওয়েব সিরিজে এমন দৃশ্য নতুন নয়। বিদেশে অহরহ হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে অ’পুর বক্তব্য অ’ত্যন্ত স্পষ্ট। ‘এটা বাংলাদেশ। এসব আমাদের সংস্কৃতি না’ স্ম’রণ করিয়ে দিয়ে অ’পু বলেন, ‘দেশের বাইরে ওয়েব সিরিজগুলোতে অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অনেক নামিদামী শিল্পীকেও দেখা যায়। সেটা তাদের সংস্কৃতির সঙ্গে যায়।’

অ’পু উদাহ’রণ টেনে বলেন, ‘কলকাতার বেশির ভাগ মে’য়েরা বাড়িতে হাফ প্যান্ট গেঞ্জি অনায়াসে পরতে পারে। রাত দশটার পর বাড়ির বাইরে গিয়ে ফুচকা খেতে পারে। এখানে আমি একজন সিনেমা’র নায়িকা হয়েও বাড়িতে প্যান্ট-গেঞ্জি পরতে পারি না। বাস্তবতা উপলব্ধি করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি যখন চলচ্চিত্রে পা রাখি তখনও অশ্লীলতা ছিলো। তখন কিন্তু আমি সেই স্রোতে গা ভাসাইনি। অন্যরা করছে বলে আম’রাও করবো এটা ঠিক নয়। আমাদের সংস্কৃতিকে আমাদেরই গুরুত্ব দিতে হবে। এই বোধটা সবার থাকা উচিত বলে মনে করি।’

সম্প্রতি তিনটি ওয়েব সিরিজ প্রকাশের পর অশ্লীলতার অ’ভিযোগে ভীষণ সমালোচিত হয়। অনলাইনভিত্তিক ভিডিও স্ট্রিমিং সাইট বিঞ্জ-এর প্রযোজনায় নির্মিত ওয়েব সিরিজ তিনটি হলো— ওয়াহিদ তারিকের ‘বুমেরাং’, সুমন আনোয়ারের ‘সদরঘাটের টাইগার’ এবং শিহাব শাহীনের ‘আগস্ট ১৪’।

বিতর্কের পর ‘বুমেরাং’ ও ‘সদরঘাটের টাইগার’ সাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ‘আগস্ট ১৪’-এর আ’পত্তিকর দৃশ্যগুলো কর্তনের পর ‘বিঞ্জ’-এ রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *