জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় সোহেল নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় ১৩ বৎসর ধরে শিকল বন্ধী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সোহেল উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউপির বেলতৈল খাঁয়েরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে ১৩ বছর ধরে সোহেলকে একটি আরসিসি পিলারের সঙ্গে শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে। কখনো হাসে, কখনো কাঁদে আবার কখনো উত্তেজিত সুরে চিল্লা চিল্লি করে। তার চিকিৎসার জন্য আকুতি জানিয়েছেন তার মা বৃদ্ধা বিধবা জাহানারা বেগম।

সোহেলের বৃদ্ধা মা জাহানারা বেগমজানান, সাত বছর বয়সে সোহেল টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হলে চিকিৎসায় পর জ্বর ভালো হয়। কিছুদিন পর সে হঠাৎ স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে পাগলামি শুরু করে। পরে ধীরে ধীরে সে পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। ওই সময় সোহেলকে প্রথমে জামালপুর পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার পর অর্থ সঙ্কটে ছেলের চিকিৎসা দিতে পারেননি।

শিকল পড়া পাগল ছেলের চিন্তায় আর ঋণের চাপে সোহেলের বাবা মারা যান। এদিকে বৃদ্ধা মা জাহানারা বেগম পাগল ছেলে নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছেন। বড় ছেলে সংসারের হাল ধরতে এক বছর আগে ঋণ করে বিদেশে গেছেন। বর্তমানে করোনা মহামারিতে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকায় সংসার চালিয়ে এখনো ঋণ শেষ করতে পারেনি। তাই পাগল ছেলে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে রয়েছেন জাহান্নারা বেগম। বর্তমানে তিনি বয়সের ভারে প্রায় মৃত্যুর পথ যাত্রী।

প্রতিবেশি বিল্লাল হোসেন জানান, টাকার অভাবে সোহেলকে চিকিৎসা করতে পারছে না তার পরিবার। ছেড়ে দিলে সোহেল মানুষকে মারধর করে ক্ষতি করে, ধরে রাখা যায় না। তাই গত ১৩ বছর যাবৎ তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছে তার পরিবার।

মা জাহানারা বেগম বলেন, ছেলেটাকে নিয়ে দুঃচিন্তায় আছি। ওর খাওয়া-দাওয়া দেয়াই খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আমার তো চিকিৎসা করানো সামর্থ্য নেই।

তিনি পাগল ছেলের চিকিৎসার জোর আকুতি জানিয়ে বলেন, মরার আগে যদি ছেলেটাকে সুস্থ দেখে যেতে পারতাম। তাহলে মরে গিয়েও শান্তি পেতাম।

ঘোষেরপাড়া ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শাহজাহান আলী বলেন, ছেলেটার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তার মা তাকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। তাকে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই তার মায়ের। তাকে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারলে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *