Bangla NewsBD Politics

পথ হারিয়ে খাদের কিনারে পাঁচ মন্ত্রী

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পাঁচটি মন্ত্রণালয় অ’ত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । এই পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করে, সরকারের সাফল্য এবং একটি দেশের এগিয়ে যাওয়া। এ পাঁচটি মন্ত্রণালয় হলো:- অর্থ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বিশ্লেষকরা বলেন যে, এই মন্ত্রণালয়গুলো যদি সফল হয়, তাহলে বাংলাদেশও সফল হবে।

অর্থমন্ত্রণালয়: বাংলাদেশের নানা বাস্তবতায় অর্থ মন্ত্রণালয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ । অর্থমন্ত্রী হিসেবে এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চ’মক দিয়েছেন। তিনি রীতি ভেঙ্গে সিলেটের বাইরে একজনকে অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আহম মোস্তফা কামাল ভালো করবেন এই প্রত্যাশা করেছিলেন অনেকে।

কারণ অর্থমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই মন্ত্রণালয়ে তিনি সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছিলেন। কিন্তু অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি কতটা সফল হয়েছেন সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এক রকম নিস্ক্রিয়তা পেয়ে বসেছে বলে মনে করেন, অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষকরে অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি বলেছিলেন, আর ঋণখেলাপি বাড়বে না। কিন্তু বাংলাদেশে এখন ঋণ খেলাপি অন্য সব সময়ের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে বলেই পরিসংখ্যান বলছে।

অর্থমন্ত্রী করো’নার প্রকোপের পর থেকে নিজেকে গুটিয়ে ফেলেছেন। এ সময় অর্থসচিবই বিভিন্ন কর্মকা’ণ্ড তদারকি করছেন। অর্থমন্ত্রী চিকিৎসার জন্য দুবার বিদেশে গেছেন এবং খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে যেমন বাংলাদেশ সরকার পিছিয়ে পড়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ও পিছিয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় গুরুত্বপুর্ণ কিন্তু রাজস্ব আদায়ে বাংলাদেশ সফল হচ্ছে না।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং পরিকল্পনায় এই প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছিল । যে প্রণোদনা প্যাকেজটি ছিল বিশ্বের একটি অনন্য উদাহ’রণ। বাংলাদেশ সম্ভবত বিশ্বের প্রথম দেশ যারা এই প্রণোদনা প্যাকেজটি ঘোষণা করেছিল।

কিন্তু ওই প্রণোদনা প্যাকেজের অনেক টাকা এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো ছাড় দেয়নি। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে প্রণোদনা প্যাকেজের যে অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল তা সামান্যই গ্রাহকরা পেয়েছেন বলে অ’ভিযোগ উঠেছে। এছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয় প্রবৃদ্ধি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে । বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনও ভালো অবস্থানে আছে। সেটার প্রধান কারণ প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ এবং তৎপরতা। অর্থমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে এবং তার নির্লিপ্ততা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়: বাংলাদেশে সাফল্যের একটা বড় অনুষঙ্গ হলো কৃষি। কৃষি খাতে বাংলাদেশের সাফল্য বাংলাদেশের অর্থনীতির সাফল্য বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। কৃষিমন্ত্রী হিসেবে মতিয়া চৌধুরী বাংলাদেশকে খাদ্যে, কৃষি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কৃষি যেনো, খানিকটা হলেও মুখ থুবরে পড়েছে।

পেঁয়াজ নিয়ে বাজারে ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি, এখন চলছে আলু নিয়ে অস্থিরতা। আর কৃষিমন্ত্রী নিজেও অসহায়ের মত স্বীকার করেছেন যে, আলুর পরিস্থিতি এরকম হবে সেটি তার ধারনার বাইরে ছিল । কৃষিমন্ত্রীকে অনেক সময় মনে হয়েছে দিকভ্রান্ত এবং কঠিন সময়ে দায়িত্ব পালনের জন্য যে কঠিন দৃঢ়তা দেখাতে হয় সে দৃঢ়তার অভাব দেখা যায় কৃষিমন্ত্রীর মধ্যে।

শিক্ষামন্ত্রণালয়: একটি দেশের উন্নতির প্রধান বাহন হল শিক্ষা। বলা হয় শিক্ষাই জাতির মেরুদ’ন্ড। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার বিরাট সাফল্য অর্জন করেছিল। বিশেষ করে বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদান করা, নারী শিক্ষার্থীদের অবৈতনিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা, মিডডে মিলের মত শিক্ষা কার্যক্রমগুলো বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে।

কিন্তু করো’না পরিস্থিতির পর শিক্ষামন্ত্রীর দক্ষতা, বিচক্ষণতা এবং সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়ার অভাব লক্ষ্য করছেন অনেকেই। বিশেষ করে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা না নেয়া, অটো পাস পদ্ধতির মাধ্যমে বার্ষিক পরীক্ষা, পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ করার যে সিদ্ধান্ত। সে সিদ্ধান্ত গুলো বিতর্কের মধ্যে পড়েছে। অনেকে মনে করছেন শিক্ষামন্ত্রী আরো সাহসী হতে পারতেন।

বাণিজ্য মন্ত্রনালয়: বাণিজ্যমন্ত্রী শুরু থেকেই নানা রকম বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। গত বছরে পেঁয়াজের দাম ডাবল সেঞ্চু’রি হয়েছিল। বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছিল। বাজারের ওপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। আর বাণিজ্যমন্ত্রীকেও মাঝে মাঝে হাল ছেড়ে দেওয়া এক নাবিকের মতোই মনে হচ্ছে। বাজারে যে সিন্ডিকেট হচ্ছে সেকথা সরকারের মন্ত্রীরা স্বীকার করছেন। কিন্তু সিন্ডিকেট বন্ধের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কি করছে সে এক প্রশ্ন বটে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে জাহিদ মালেক পদোন্নতি পেয়েছেন এর আগে ছিলেন প্রতিমন্ত্রী এবার তিনি পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাফল্যগাঁথা যতই বলা হোক না কেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে সফল, সম্ভবত বাংলাদেশের কেউই তা বলবেন না। তবুও রাজনৈতিক বিবেচনায় তাকে সফল বলা হচ্ছে। কিন্তু মন্ত্রী হিসেবে তিনি একের পর এক বিতর্ক উস্কে দিচ্ছেন। সর্বশেষ বাংলাদেশ যে করো’নার দ্বিতীয় ঢেউ কিভাবে মোকাবেলা করবে, সে স’ম্পর্কেও কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নেই। বরং মন্ত্রণালয়ের কাজের চেয়ে সচিবের সঙ্গে কর্তৃত্ব ল’ড়াইকে তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের কাছ থেকে জনগণ আরো দায়িত্বশীল, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন সাহসী সিদ্ধান্ত আশা করেন। সেই সিদ্ধান্ত যদি তারা না দিতে পারেন তখন ইতিহাসে তারা ব্যর্থ হিসেবে পরিচিত হবেন। সকলে মনে করেন এখনই তাদেরকে আরো সাহসী পদক্ষেপ এবং দূরদৃষ্টি সম্পন্ন চিন্তাভাবনার বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

— বাংলা ইনসাইডার

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button